ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাহারাদারের ভূমিকায় কাজ করব: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পাহারাদারের ভূমিকায় কাজ করব: পানিসম্পদ মন্ত্রী
×

ছবি: সমকাল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩১

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়েই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, কীভাবে শুকনো মৌসুমে জুন মাস পর্যন্ত মানুষকে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা দিতে পারি সেই চিন্তা আমরা করছি। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়। উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাঁধ জরুরি। বাঁধ স্থায়ীভাবে ধরে রাখাও আমাদের লক্ষ্য। এছাড়াও এখানকার ডুবন্ত বাঁধগুলো প্রতিবছরই রিপেয়ার করতে হয়।

তিনি বলেন, বাঁধ রিপেয়ার করার কারণে এখানে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জনে ভূমিকা রাখছে হাওর অঞ্চল। এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা হাওর অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিবছর যেন কাজ সুন্দরভাবে ও দুর্নীতিমুক্তভাবে হয় সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন ফসলরক্ষা বাঁধ ঘুরে দেখেন এবং কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাল খনন-পুনঃখনন ও নদীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন ও বাঁধ দেওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের মহৎ উদ্যোগকে কেউ যেন দুর্নীতির মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য সরকার সতর্ক আছে। আমরা পাহারাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে জনস্বার্থে কাজ করব। নদী খননের কাজ অব্যাহত রয়েছে, এছাড়াও যেখানে প্রয়োজন সেখানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। 

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগে বাঁধ করতে গিয়ে অনেক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, ভবিষ্যতে যাতে এটা না হয়, সেজন্য জিরো টলারেন্স নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ঠিকাদারের পরিবর্তে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) দিয়ে কাজ করানোর ফলে বাঁধ নির্মাণে ব্যয় কমছে এবং কাজের গুণগত মানও উন্নত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই সতর্ক আছেন। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যারা পিআইসির মাধ্যমে সঠিকভাবে কাজ করবেন, তারা অবশ্যই বকেয়া অর্থ পাবেন। অর্থের কোনো সংকট নেই, তবে গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষও সচেতন। এখানকার মানুষের মাধ্যমে কমিটি হয় ও তাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সবাই সতর্ক ও সজাগ থাকলে আমাদের এই মহৎ উদ্যোগে দুর্নীতির কারণে বদনাম হবে না। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে বাঁধের কাজ আরও ত্বরান্বিত করে সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাব।

বাঁধ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রকল্প নিয়ে বাঁধের মধ্যে কিছু ফ্লাড ফিউজ তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। একই সাথে জীববৈচিত্র অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারেও সচেতন আমরা আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই অঞ্চলের খোঁজখবর রাখছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল হক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এর আগে মন্ত্রী সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনসহ জেলা বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×