মাধবকুণ্ডের পানি স্বাভাবিক, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
জলপ্রপাতের পানিতে ওষুধ ছিটানোর ফাইল ছবি -সমকাল
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪১
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি স্বাভাবিক হয়েছে। এতে জলজ প্রাণী শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর মড়ক ঠেকাতে ও পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার সেখানে ওষুধ দেওয়া হয়। এখন স্থানীয় আদিবাসীরা পানি ব্যবহার করতে পারছেন। এদিকে জলপ্রপাতে বিষাক্ত লতাগুল্ম দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের গৌড়নগর গ্রামের ইমাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর সকালে পর্যটকসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে উঠতে দেখেন। মৃত মাছের কারণে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে মঙ্গলবার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকা পরিদর্শন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক সুলতান আহমদ।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ছড়ার পানি খাওয়াসহ সব কাজে ব্যবহার করেন স্থানীয় খাসিয়াপুঞ্জির বাসিন্দা ও পাশের চা বাগানের লোকজন। হঠাৎ করে মাছ মরে যাওয়া ও পানিতে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় তারা বিপাকে পড়েন। এ অবস্থায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে দুই দফায় পানি পরীক্ষা করা হয়, ছিটানো হয় ওষুধ। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, আদিবাসী লোকজন ছড়ার পানি তাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিনের মতো দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসছেন। অনেকেই জলপ্রাতের স্বচ্ছ পানিতে নেমে ছবি তুলছেন। পানিতে এখন কোনো দুর্গন্ধ নেই। কেউ কেউ পানি পানও করছেন।
মাধবকুণ্ড খাসিয়াপুঞ্জির হেডম্যান ওয়ান বর গিরি বলেন, 'বিষ প্রয়োগের পর থেকে আমরা পানি দুই-তিন দিন ব্যবহার করতে পারিনি। অনেকটা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, খাওয়াসহ সব কাজে এ পানিই আমাদের একমাত্র ভরসা। মঙ্গলবার ওষুধ দেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রশাসনের লোকজন জানিয়েছেন, এখন পানি ব্যবহার করা যাবে। এজন্য বুধবার থেকে আমরা পানি পান করতে পারছি। বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করতে পারছি।'
মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও বলেন, জলপ্রপাতের পানি এখন স্বাভাবিক ও বিষমুক্ত। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা ছাড়াও জীবিত মাছ ছেড়ে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল আশানুরূপ।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার এসআই শরীফ উদ্দিন বলেন, জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
- বিষয় :
- জলপ্রপাত
- মাধবকুণ্ড
- মৌলভীবাজার