শিক্ষিকা আসমা হত্যা
শরীরজুড়ে ১৮টি আঘাত, ডান গলায় গভীর ক্ষত
আসমা সাদিয়া রুনা
কুষ্টিয়া ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যায় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০১:৫৭
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরে ১৮ থেকে ২০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি গভীর ক্ষত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষিকা আসমার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ শহরের কোর্টপাড়ার বাসায় নেওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। গত বুধবার অফিস সহায়ক (অস্থায়ী) ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে খুন হন আসমা সাদিয়া রুনা।
এদিকে এ হত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে গতকাল সকালে থানায় মামলা করেছেন আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। আসামির মধ্যে দুজন সহকারী অধ্যাপকও রয়েছেন। হত্যার প্রতিবাদে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, রুনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাঁর শরীরে ১৮টির মতো ছোট বড় আঘাত রয়েছে। তবে গলার ডান পাশে গভীর ক্ষত দেখা গেছে। সেখানে রক্ত জমাট বাধা ছিল। বাঁ পাশেও ক্ষত আছে। গলায় পোঁচ না দিয়ে সোজা ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে গভীর ক্ষত হয়েছে।
আসমার বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার পরিবারের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, আসমা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার আসামি হলেন– অফিস সহায়ক ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ
বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।
মামলার আসামি সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি জড়িত থাকলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন বলেন, বেশ কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আশা করছি, তদন্তে সব পরিষ্কার হবে।
এদিকে বড় ঈদগাহ ময়দানে জোহরের নামাজ শেষে আসমার জানাজা হয়। পরে তাঁর লাশ পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়।
আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, আমার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
হতাশা ও ক্ষোভ থেকে রুনার ওপর হামলা
ফজলুর রহমান দিন হাজিরায় অস্থায়ী অফিস সহায়ক হিসেবে সমাজকল্যাণ বিভাগে আসমার অধীনে কাজ করতেন। অস্থায়ী হওয়ায় ফজলুর রহমান নিয়মিত বেতন পেতেন না। আসমার সঙ্গে বেশ কয়েকবার নানা কারণে ঝামেলা হওয়ায় তাঁকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়। এসব নিয়ে হতাশ ছিলেন ফজলুর রহমান।
রাগ ও ক্ষোভ থেকেই আসমার ওপর হামলা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার সময় ফজলু নিজের গলায়ও ছুরি চালান। এতে তাঁর শ্বাসনালি কেটে যায়। এ কারণে তিনি কথা বলতে না পারলেও লিখতে পারছেন।
এদিকে আসমা সাদিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
