ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খাল খননের মাটি দিয়ে ভরাট আ.লীগ নেতার পুকুর-বাড়ি

খাল খননের মাটি দিয়ে ভরাট আ.লীগ নেতার পুকুর-বাড়ি
×

নবীগঞ্জ উপজেলার কামারগাঁও এলাকায় নরখাই নদীর খাল খনন প্রকল্পের মাটি ট্রাকযোগে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিকেলে তোলা সমকাল

 নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জাইকার অর্থায়নে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের ছয় কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নদী খনন প্রকল্পের মাটি দিয়ে নিজের বাড়ি ও পুকুর ভরাট করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কাজল। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নীরবতা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে শেরখাই ও নরখাই নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ জন্য দীঘলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে কাজ পরিচালিত হচ্ছে আগের যুবলীগ নেতা দোলনের গঠন করা কমিটির মাধ্যমেই। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার কাজ শুরু হয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ প্রকল্পে ১০ ফুট গভীর করে নদী খননের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিআরডি) কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত বিলও তুলে নিচ্ছে প্রকল্প কমিটি। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ১০ ফুটের জায়গায় সামান্য পরিমাণ খনন করে বর্ষার অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি উঠলে প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাবে না। আর খরচের টাকা তোলা হচ্ছে নদী থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাদিক মিয়া বলেন, প্রকল্প কমিটির সদস্যরা কয়েকজন রাজনীতিবিদের নিয়ন্ত্রণে। ১০ ফুটের জায়গায় মাত্র ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধন করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সবার যোগসাজশেই প্রকল্প লুটের আয়োজন চলছে।
জালাল উদ্দিন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, যে পরিমাণ খনন করা হচ্ছে, তা এক মৌসুমেই ভরাট হয়ে যাবে। এতে নদী খনন কর্মসূচির কোনো সুফল মিলবে না। অপর বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সরকারি প্রকল্পের খাল খননের সময় নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাশে রাখার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। 
সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা খনন কাজের ছবি তুলতে গেলে প্রকল্প সাইটে উপস্থিত শাহান চৌধুরী নামে এক তরুণ তাদের বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কাজলের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  

প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন জানান, তিনি প্রকল্পের সভাপতি হলেও কাজ করছেন ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশল অফিস। তারা তাদের সমিতিকে একটি লভ্যাংশ দেবেন। কোনো অনিয়ম হলে তা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস দেখবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকার কিছু মানুষ তাদের অনুমতি নিয়ে নিজের প্রয়োজনের জন্য মাটি নিয়েছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের প্রকল্পের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা বলেন, সব বিষয় তাঁর জানা নেই। তাদের তদারকির দায়িত্ব আছে, তাই দেখছেন। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, নদী খনন প্রকল্পের মাটি অন্যত্র নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে সরজমিন তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×