ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

বাঁশের সাঁকোতে চলাচল, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

বাঁশের সাঁকোতে চলাচল, দুর্ভোগে  ১০ গ্রামের মানুষ
×

ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষকে। সম্প্রতি উপজেলার রূপবাবুর হাট এলাকায় সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের রূপবাবুরহাট-সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীর ওপর নির্মিত সাঁকো আশপাশের ১০ গ্রামবাসীর একমাত্র চলাচলের ভরসা। প্রায় ৪০০ মিটার প্রশস্ত এই নদীর ওপর তৈরি বাঁশের সাঁকোতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি। এতে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

ষাটোর্ধ্ব সবজি বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম ব্যাপারী দীর্ঘ ২৫ বছর রূপবাবুরহাটে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাঁশের সাঁকোর 
কারণে তাঁকে প্রতিদিন বাড়ি ও ফসলের ক্ষেতের সবজি নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে যেতে হয়। অথচ তাঁর বাড়ি থেকে বাজারের দূরত্ব মাত্র ৪০০ মিটার।
তাইজুল ইসলাম জানান, শুধু ব্যবসার কাজেই নয়; সব ধরনের প্রয়োজনে তাদের এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। তিনি নিজে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হলেও দোকানের মালপত্র বাজারে নেন অনেকটা পথ ঘুরে। সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এভাবেই কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। বেশি রাস্তা ঘুরে বাজারে মাল আনতে গেলে খরচও অনেক বেড়ে যায়। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রূপবাবুরহাট বাজারের পাশে পদ্মার শাখা নদীর ওপর নির্মিত সাঁকো দিয়ে পালেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি, ফরাজীকান্দি, আকনকান্দি, মল্লিককান্দি, সৈয়লকান্দিসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। স্থানীয়দের বাজার-সদাই, শিক্ষা কার্যক্রম এমনকি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও এই সাঁকোর ওপরেই নির্ভর করতে হয়। এলাকার কর্মজীবী মানুষ, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে বাজার, উপজেলা ও জেলা সদর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু কালাম, হিমেল খান, রুস্তম ব্যাপারী ও হাশমত খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। 
রূপবাবুরহাটে অবস্থিত পূর্ব নাওডোবা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলভি আহমেদ বলছিল, ছোটবেলা থেকেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে তারা চলাচল করে আসছে। বাজার কিংবা স্কুলে যাতায়াতে এই সাঁকো পার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো পার হতে তার অনেক ভয় লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা মন্টু বাবু বলেন, এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা চিন্তা করেই স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন খান বলেন, একটি সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেক দিনের। মাঝেমধ্যে তিনি সাঁকোটি মেরামতের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে নদীর পারের কিছু জায়গা নিয়ে বিরোধ থাকায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। সমস্যার সমাধান করে দ্রুতই সেখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। 
 

আরও পড়ুন

×