অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে আটক ১০ তরুণ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪২ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট নগরীতে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০ তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। ওই সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনসেট, নগদ টাকা, ঘটনায় ব্যবহৃত কাঁচি, চাকু, লোহার রুল এবং তাদের কবল থেকে এক ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, রোববার রাতে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামে ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটকৃরা হলো– দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকার মো. সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), উপশহর এলাকার মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), ছাতক উপজেলার মণ্ডলপুর গ্রামের ফয়জুল করিমের ছেলে বর্তমানে হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর এলাকার আব্দুল মন্নানের ছেলে বর্তমানে শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মারজান (১৯), ছাতক উপজেলার রায়সন্তোষপুর গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে বর্তমানে হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮), হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) ও হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)। ওই সময় তাদের কাছে থাকা ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে উদ্ধার করে পুলিশ। জাহিদ আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে গোয়াবাড়ি এলাকায় বসবাসকারী সুহেল সরকারকে রোববার সন্ধ্যায় তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে। তাঁকে তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ নামে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে চাকু ও কাঁচি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা আদায়ও করা হয়। পরে ভিকটিমের জামাকাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি সুহেল সরকার কোতোয়ালি থানাকে অবগত করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ১০ জনকে আটকের সময় তাদের জিম্মা থেকে আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
