পরিচ্ছন্নকর্মীদের ধর্মঘট নগরীতে বর্জ্যের স্তূপ
বেতন-বোনাস দাবিতে গত বুধবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি করেপারেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঝাড়ুমিছিল করেন তারা সমকাল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৩ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদ বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নকর্মীদের ধর্মঘট গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন পেরিয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণ না করায় নগরের সড়ক ও অলিগলিতে বর্জ্যের স্তূপ জমেছে। দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে ওইসব এলাকা। এদিকে বিক্ষুব্ধ পরিচ্ছন্নকর্মীরা গতকাল সকালে নগরীতে ঝাড়ুমিছিল করেন। ধর্মঘট অবসানে গতকাল বিকেল পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বিসিসিতে প্রায় এক হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নকর্মী কাজ করেন। তারা সবাই দৈনিক মজুরি শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত। ঈদ বোনাসের দাবিতে এক সপ্তাহ আগ থেকে তারা নগরীতে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত থেকে তারা পরিচ্ছন্নের কাজ বন্ধ করে দেন। জানা গেছে, নির্বাচিত মেয়র থাকাকালীন উৎসবে শ্রমিকদের ভাতা দেওয়া হতো। বিসিসির প্রধান নির্বাহীর দাবি, মেয়ররা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্নভাবে তহবিল সংগ্রহ করে শ্রমিকদের অনুদান দিতেন। সেটি ভাতার মধ্যে পড়ে না।
বরিশাল নগরে ডাস্টবিন নেই। প্রতিটি মহল্লায় বাসাবাড়ির বর্জ্য সড়কের ওপর নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়। সেখান থেকে বিসিসির ট্রাকে তুলে দূরবর্তী নির্দিষ্ট স্থানে ফেলানো হয়। দুদিন ধরে ময়লা অপসারণের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফেলা ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এমনকি নগরীতে সড়ক ঝাড়ু দেওয়ার কার্যক্রমও বন্ধ। ফলে সব সড়ক অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। নগরীর পোশাক বিক্রির প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা হলো চকবাজার, কাঠপট্টি ও হেমায়েত উদ্দিন রোড। ঈদ উপলক্ষে এসব এলাকায় এখন ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। বিসিসি কর্মীরা পরিষ্কার না করায় এসব এলাকায় সড়কের ওপর পলিথিন ও অন্যান্য কাগজের প্যাকেটের স্তূপ জমেছে।
বিসিসির পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় আছেন। শুনেছেন সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নগরীতে দৈনিক ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সে অনুযায়ী গত দুদিনে প্রায় ৪০০ টন বর্জ্য জমেছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ময়লা-আবর্জনায় নগরীর অবস্থা যেমন খারাপ হচ্ছে, তেমনি পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উৎসবও মাটি হয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রশাসক বলেছেন, ফান্ডে টাকা নেই। গতকাল বিকেল ৪টায় মনীষা চক্রবর্তী সমকালকে জানান, তিনি শুনেছেন বিসিসি পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, তারা চেষ্টা করছেন পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতে। বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীর আগ্রহে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা বসতে চান। বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক প্রতিনিধিদের কেউ যাননি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বরাত দিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দেশনা হচ্ছে–জরুরি কাজের জন্য নিয়োজিত সাময়িক শ্রমিক অর্থ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত মজুরি ছাড়া অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না।’
- বিষয় :
- সিটি করপোরেশন
