ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ঈদবাজার

বাহারি নাম ও নকশার পোশাক বাড়তি দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস

গত বছরের তুলনায় এবার জামাকাপড়, জুতা সবকিছুর দাম অনেক বেশি

বাহারি নাম ও নকশার পোশাক বাড়তি দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস
×

ঈদুল ফিতরের আর বেশি দিন নেই। এই সময়ে চট্টগ্রাম নগরীর মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার মার্কেটে ছিল ক্রেতার ভিড়। নগরীর নিউমার্কেট থেকে তোলা সমকাল

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১০:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরের শপিং সেন্টারে দুই মেয়ে ও এক ছেলের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন চাকরিজীবী মো. মঈন উদ্দিন। বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়েও কিছু না কিনেই বের হয়ে যান তিনি। জানতে চাইলে মঈন উদ্দিন বলেন, ‘দুই হাজারের কম টাকায় ছোট মেয়ের একটি পোশাক নেই। চার বছর বয়সীদের প্রতি জোড়া জুতার দাম চাইছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। অনেকক্ষণ ঘুরেও তিন ছেলেমেয়ের জন্য কিছুই কিনতে পারলাম না। কারণ বাজেট কম। সামান্য টাকায় পরিবারের সবার ঈদের কেনাকাটা করতে হবে। এত বাড়তি দাম দিয়ে আমার মতো নিম্ন মধ্যবিত্তের পক্ষে কেনাকাটা করা অসম্ভব।’ 

এমন অবস্থা কেবল মঈন উদ্দিনের নয়, তাঁর মতো অনেক ক্রেতাকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে এমন বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এর প্রধান কারণ চাল, ডাল, তেলের মতো এবার ঈদ মার্কেটেও প্রায় সবকিছুর দাম বাড়তি। চট্টগ্রামের ঈদবাজারে গতবারের চেয়ে এবার দাম বাড়তি ছোট-বড়দের পাঞ্জাবি, জুতা থেকে শুরু করে শাড়ি, থ্রিপিসসহ প্রায় সব পোশাকের। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট বাজেটে কেনাকাটা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেটে নানা দেশের ঈদপোশাক থাকলেও ভারতীয় পোশাকের প্রতি অনেকের আগ্রহ থাকে। তবে এবার ভারতীয় পোশাক আমদানি হয়নি। তা ছাড়া বছরের ব্যবধানে কাপড়, সুতা, রং, পুঁতি, চামড়া, বোতামসহ প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামে।

ভারত থেকে বেশি পোশাক আমদানি না হওয়ায় এবার ঈদ মার্কেটে পাকিস্তানি পোশাকের যেন রাজত্ব চলছে। পাকিস্তানি বিভিন্ন রঙের জর্জেট ও সিল্কের থ্রিপিস, গাউন, ওয়ান পিস, সিল্কের ওপর বিভিন্ন রঙের ডিজিটাল প্রিন্টের চাহিদাও আছে বেশ। পুঁতি, পাড় বসানো ভারি কাজ করা জর্জেটের কামিজও কিনছেন অনেকেই। শিশুদের জন্য অনেকে ভারি কাজের পোশাক পছন্দ করছেন। বাটিক, সুতি, হাফসিল্ক, তাঁত ও জর্জেটের ওপর কাজ করা শাড়ির চাহিদাও অনেক। ভারি কাজে তৈরি কামিজের সঙ্গে গাউন, প্রায় মেঝে ছোঁয়া ফ্রক বেশি কিনছেন ক্রেতারা। 

চট্টগ্রাম নগরের সানমার ওসান সিটি, মিমি সুপারমার্কেট, আফমি প্লাজা, ফিনলে স্কয়ার, আমিন সেন্টার, টেরিবাজার, ভিআইপি টাওয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটে পাকিস্তানি ও চীনের পোশাক-জুতার আধিক্য বেশি। বাহারি নাম ও নকশার শাড়ি, থ্রিপিস, টপস, শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্টে ভরে উঠেছে প্রতিটি মার্কেট। তবে সবকিছুর দামই গতবারের তুলনায় বেশি।

চট্টগ্রাম নগরের বিপণিবিতানে (নিউমার্কেট) আসা পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা ফেরদৌসী ইসলাম বলেন, ‘এবার সবকিছুর দাম বেশি দেখছি। গতবার শিশুদের জন্য যেসব পাঞ্জাবি মাত্র ৫০০ টাকায় কিনেছি, এবার একই পাঞ্জাবির দাম চাইছে হাজার টাকা। পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের এক জোড়া জুতার দাম পড়ছে দুই হাজারের ওপরে। অথচ গতবার এমন জুতার দাম ছিল হাজারের নিচে।’ আরেক ক্রেতা জ্যোৎস্না আক্তার বলেন, ‘হাজার থেকে দেড় হাজারে কেনা শাড়ির দাম এবার পড়ছে তিন হাজার টাকা। সামান্য কাজ করা একটি থ্রিপিসের দাম পড়ছে আড়াই হাজারের ওপরে। এত বাড়তি দামের কারণে নির্দিষ্ট টাকায় পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

দাম কম থাকলে তা নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘সুতা থেকে শুরু করে পোশাক তৈরির প্রতিটি উপকরণের দাম বছরের ব্যবধানে বেড়েছে। তা ছাড়া ভারত থেকে আশানুরূপ পোশাক আমদানি হয়নি। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিবছর যে পরিমাণ পোশাক ভারত থেকে আনে, এবার সেভাবে আনতে পারেনি। অনেকে আগাম বুকিং দিলেও নির্ধারিত সময়ে পণ্য বুঝে পায়নি। এসব কারণে এবার দাম কিছুটা বেশি।’ ভিআইপি টাওয়ারের পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান শাওন ফ্যাশনের মালিক মাহমুদুর রহমান শাওন বলেন, ‘মার্কেটে ক্রেতা আছে অনেক, কিন্তু সে হারে দৈনন্দিন বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্রেতা কম দামি পোশাক চাইছেন। ক্রেতারা হাজার টাকার পোশাকের দাম বলছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অথচ আমরা পাইকারিভাবে সেই টাকায় পোশাক কিনতেও পারিনি। দাম বাড়তি থাকায় বেশির ভাগ ক্রেতা দেখাদেখি করেই দোকান ত্যাগ করছেন। আমরা সামান্য কিছু লাভেই পণ্য বিক্রি করি।’

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই চাল, ডাল, তেলসহ বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম চড়া। রমজানে আরেক দফায় কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ভোগ্যপণ্যের বাজারের মতো স্বস্তি নেই ঈদ মার্কেটেও। ছোট শিশুর পোশাক থেকে শুরু করে জুতা– সবকিছুর দামই এবার বাড়তি। যে হারে ব্যয় বাড়ছে সে হারে মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই নির্দিষ্ট বাজেটে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে বেশির ভাগ ক্রেতাকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×