বৃষ্টিতে বন্ধ প্রকল্প, বরাদ্দ লুটের শঙ্কা
খনন প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে ঢাকা পড়েছে নবীগঞ্জের শেরখাই নদী। শুক্রবার তোলা ছবি
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৩ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৩
নবীগঞ্জে সেরখাই ও নরখাই নদী খনন প্রকল্পের কাজ বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। নদীতে পানি ওঠায় বর্তমানে খননকাজ চালানো যাচ্ছে না। এতে করে শঙ্কার মুখে পড়েছে ছয় কোটি টাকার প্রকল্পটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, নদীগুলো পানিতে টইটম্বুর হয়ে গেছে। এর ফলে খননের পর বিলসম জলাশয় হতে পারে সেগুলো। বৃষ্টির জন্যই ধীর গতিত চলছিল প্রকল্পের কাজ। এখন কম কাজে বেশি লুটের বৈধতা পাওয়া গেল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প অনুযায়ী নদী দুটি ১০ ফুট গভীরতায় খননের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে খনন করা হয়েছে। তাদের দাবি, বৃষ্টির আগে অল্প গভীর করে খনন করেই কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছিল, কারণ নদীতে পানি উঠলে প্রকৃত গভীরতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদী এলাকায় বৃষ্টি হয়। পরে বিকেলের দিকে খননকাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরগুলো নদীর তীরে তুলে নিয়ে প্রকল্পের স্থান ত্যাগ করেন চালকরা।
এদিকে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, নদী থেকে উত্তোলিত মাটি নদীর পাড়ে রাখার কথা থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত মাটি বিক্রি করেই খননকাজের ব্যয় মেটানো হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের মতে, মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে খনন করলে এ ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী সুফল মিলবে না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই নদী আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীগলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে সেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য জাইকার ছয় কোটি ১২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়। দলটির পতনের পরও তার নেতৃত্বে চলছে কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প অনুযায়ী নদী দুটি ১০ ফুট গভীর করে খননের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে খনন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বিল অনুমোদনের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাদিক মিয়া বলেন, প্রকল্প কমিটির সদস্যরা কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১০ ফুটের জায়গায় মাত্র ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করা হয়েছে নদী। এখন নদীতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। কিছুদিন পরই বর্ষাকাল শুরু হবে, তখন আর খনন করার সুযোগ থাকবে না।
প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করছে। কোনো অনিয়ম হলে তা উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় দেখবে। সমিতির অফিস পরিচালনার জন্য তারা কিছু কমিশন নিয়েছেন মাত্র।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নদীতে এখন কাজ করা সম্ভব নয়।
- বিষয় :
- নবীগঞ্জ
