ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহ পরও চাল পাননি জেলেরা

পটুয়াখালীর বাউফল

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহ পরও চাল পাননি জেলেরা
×

ছবি: সংগৃহীত

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১১:০০

জাটকা সংরক্ষণে দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর দুই সপ্তাহ পার হলেও পটুয়াখালীর বাউফলের তালিকাভুক্ত জেলেরা চাল পাননি। যথাসময়ে চাল না পাওয়ায় নদীতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল জেলেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

বাউফলের তেঁতুলিয়া পাড়ের জেলেদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানদের গাফিলতির কারণেই সঠিক সময়ে তারা সরকারি সহায়তার চাল পাচ্ছেন না। 

বাউফল উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাউফল ও দশমিনা উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর কালাবদর থেকে গঙ্গামতী পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এ সময় বাউফল উপজেলার প্রায় ছয় হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসব জেলে পরিবারের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৪০ কেজি, মোট ৮০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করেছে সরকার। 

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের কাছে খাদ্য সহায়তার চাল উত্তোলন ও বিতরণের ছাড়পত্র প্রদান করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করবেন।

জানা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এ নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা। অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। 

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মাহবুব, ছালাম মাঝি বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য সরকার মোগো চাল দেয়। মোরা হুনছি, মৎস্য অফিসের ছার কইছে, চালের ডিও অনেক আগেই দিছে। চেয়ারম্যানকে চালের কথা বললে তিনি বলেন, এখন হবে না, ঈদের পরে পাবে। আমরা এ্যাহন অনেক কষ্টে আছি। রোজার মাসে ধার করে চলছি।’

ধুলিয়া নদীপারের জেলে কবির হোসেন বলেন, ‘নদীতে জাল বাইয়া মোগো সংসার চলে। এই নদীই মোর চার সদস্যেরে চালায়। মাছ পাইলে সংসার চলে আর না পাইলে না। চাল না পাওয়ায় কতটা কষ্টে আছি, তা কাউরে বোঝাতে পারমু না। চালের বিষয়ে মেম্বারকে জিজ্ঞেস করলে বলে, চেয়ারম্যান জানেন; আর চেয়ারম্যান বলেন, একটু সবুর করো। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশার মৃধা বলেন, ট্রলারের সংকট থাকায় খাদ্যগুদাম থেকে চাল আনতে পারছি না। ঈদের পর জেলেদের চাল দেওয়া হবে। 

কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার বলেন, আগে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ শেষ করতে হচ্ছে। এর পর জেলেদের চাল দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, জেলেদের চাল দ্রুত বিতরণের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগেই চাল বিতরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

×