ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার একর আলুর ক্ষেত, শঙ্কায় কৃষক

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার একর আলুর ক্ষেত, শঙ্কায় কৃষক
×

পানিতে তলিয়ে গেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বামন দিঘী মৌজার ফসলী ক্ষেত। ছবি: সমকাল

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১১:০৬ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫১

গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার বুকভরা আশা নিয়ে আলুচাষ করেছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জের কৃষকরা। ফলনও হয়েছিল বাম্পার। কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর বাজারের মন্দাভাবে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে শত শত একর আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পচন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, একরের পর একর জমিতে থাকা আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত নারীশ্রমিক। কোনো দিকে তাকাবার ফুরসত নেই তাদের। কাদামাটি সরিয়ে আলু তুলতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। অসময়ের এই বৃষ্টি আর সংরক্ষণের অভাবে হাজার হাজার কৃষক এবার বড় ধরনের দেনার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে আলুর নায্যমূল্য নির্ধারণ এবং হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো না হলে প্রতি বছরই তাদের এমন লোকসান গুনতে হবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে জেলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিতে পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ আলুর ক্ষেত এখন পানির নিচে। পচন থেকে ফসল বাঁচাতে কাদা-পানি উপেক্ষা করেই আলু উত্তোলনে নেমেছেন কৃষকরা। তারাগঞ্জের কৃষক রুহুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আলু তোলার বদলে ক্ষেত থেকে পানি সেচতে হচ্ছে। ১৬ টাকা খরচ করে এক কেজি আলু ফলিয়ে ১০ টাকাতেও ক্রেতা পাচ্ছি না।’

পাশেই পোদ্দারপাড়া মাঠে শ্রমিক নিয়ে ডুবে যাওয়া আলুর ক্ষেত থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছিলেন ইকরচালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিলন রহমান। উদ্বেগের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘শনিবার থেকে আলু তোলার কথা ছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে পাঁচ একর জমির আলু ডুবে গেছে। পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। এখনও দুই একর জমির পানিই বের করতে পারেনি। এবার আলুর দাম নাই, তার ওপর এই অবস্থা হলে চাষিদের মরণ ছাড়া গতি নেই।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। অথচ বাজারে বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। রামনাথপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, প্রতি মণে লোকসান হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগারে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই কম দামে ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পীরগঞ্জে এবার এক লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু উপজেলার চারটি হিমাগারে মাত্র ৫২ হাজার ৫০০ টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি আলু সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগে ফড়িয়া ও পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ চাষিদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, নিচু জমিগুলোতে পানি জমে আলুর কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেন আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্ব আলুগুলো দ্রুত মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×