ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাড়তি টাকা না দিয়ে ফেরিতে উঠতে পারে না ট্রাক

বাড়তি টাকা না দিয়ে ফেরিতে উঠতে পারে না ট্রাক
×

 নিরঞ্জন সুত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) 

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০০-৩০০ টাকা দিতে হয় ট্রাকচালকদের। অন্যথায় নানা অজুহাতে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে টার্মিনালেই বসিয়ে রাখা হয়। এভাবে মাসে অন্তত ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এ ছাড়া ওজনে কম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করছে চক্রটি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন- বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া বুকিং কাউন্টারের কিছু অসাধু কর্মী মিলে এ চক্র গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে ফেরি পারাপারের জন্য পাটুরিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে চক্রটি। সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত এই টাকা না দেওয়া হলে ট্রাকের বুকিং টিকিট হয় না। 

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দেশের গুরুত্বপুর্ণ নৌ রুট। এ নৌ রুট বন্ধ থাকলে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ নৌ রুটে সারাবছরই একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে। যেমন বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোতে ঘাট ভাঙনে ও স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচলে ব্যাহত হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল করতে সমস্যা হয়। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এ নৌ রুটে চলাচলকারী বাস, কোচ, পণ্যবহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও যাত্রীদের ঘাট এলাকায় এসে নদী পারাপার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর এ সুযোগে পাটুরিয়া বুকিং কাউন্টারের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ স্টাফ ট্রাকচালকদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।  

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিস সূত্রে জানা যায়, এক টন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া এক হাজার ৫০ টাকা। ছোট ট্রাক-কভার্ডভ্যান-লরি এক টনের অধিক তিন টন পর্যন্ত এক হাজার ২৫০ টাকা ভাড়া। ট্রাক, কডার্ডভ্যান, লরি, তিন টনের অধিক পাঁচ টন পর্যন্ত এক হাজার ৩৫০ টাকা। ট্রাক, কডার্ডভ্যান, লরি, পাঁচ টনের অধিক আট টন পর্যন্ত এক হাজার ৫৫০ টাকা। ট্রাক, কডার্ডভ্যান, লরি, আট টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত দুই হাজার ১০০ টাকা। ১০ চাকা বিশিষ্ট সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহন চার হাজার ৩২০ টাকা সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। 
কিন্তু কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কাউন্টার স্টাফ প্রতি ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। এ নৌ রুটে গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক পারাপার হয়। দুই ঈদকে কেন্দ্র করে ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক প্রতিদিন পারাপার হয়ে থাকে। ঈদের সময় ট্রাকচালকদের ৪০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কাউন্টার স্টাফদের চাহিদা অনুসারে চাঁদা দিতে কোনো ট্রাক চালক না চাইলে তাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ঘোরানো হয়। ফেরিতে উঠতে না দিয়ে টার্মিনালে ট্রাক বসিয়ে রাখা হয়। এ কারণে চাঁদা দিয়েই ফেরির বুকিং টিকিট নিতে বাধ্য হয় চালকরা।  
নারায়ণগঞ্জ থেকে কুষ্টিয়াগামী পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি বুকিং টিকিট নিতে আসা ট্রাকচালক সেলিম মোল্লা বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে ফেরির বুকিং টিকিট নিতে হয়েছে। এ ছাড়া, ওজন স্কেল থেকে পাঁচ টনের স্লিপ দেওয়া হলেও ফেরি কাউন্টর থেকে চার টনের দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী ট্রাকচালক মজিদ শেখ বলেন, ২০০ টাকা বেশি দিয়ে বুকিং টিকিট নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজবাড়ীগামী ট্রাকচালক সোহেল হোসেন বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে ফেরির বুকিং টিকিট নেওয়া হয়েছে। আমার ট্রাকে পাঁচ টন পণ্য ছিল। ফেরির বুকিং টিকিটে চার টনের বুকিং টিকিট দেওয়া হয়েছে।  
পাটুরিয়া বুকিং কাউন্টারের গ্রুপ-প্রধান রায়হান আলী ও নিজাম শেখ বলেন, কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না। তবে ট্রাকচালকরা দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিতে পারেন। 
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ঘাটের ম্যানেজার জামাল হোসেন বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তাই কোনো তথ্য দিতে পারব না। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের ডিজিএম আব্দুল সালামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

×