ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিএনপির পরাজিত প্রার্থী বললেন

আগের জেলা প্রশাসক গাদ্দারি করেছেন, তাই বদলি করে দিয়েছি

আগের জেলা প্রশাসক গাদ্দারি করেছেন, তাই বদলি করে দিয়েছি
×

মেহেদী আহমেদ রুমী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১৭:০৪ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১৭:০৫

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতাম, আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি। কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা উপজেলা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। জানি না আমার অপরাধ কী। আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি, এটাই আমার অপরাধ।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মেহেদী আহমেদ রুমী ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বক্তব্য দেন। স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য দেওয়া নিয়ে সবখানে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। আমরা শহীদ জিয়ার আহবানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। আমরা মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নামে, কিন্তু কোনও ভূমিকা পালন করেননি। এরকম বহু লোককে চিনি আমরা। আমাদের জন্ম কুষ্টিয়া শহরে। বড় হয়েছি এখানে, ৭৩ বছর বয়স আমার। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করি অনেকেরই জন্ম হয়নি তখন।

মেহেদী রুমী নির্বাচনকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা টেনে বলেন, ‘কুষ্টিয়ার ওই জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনে। কুমারখালীর প্রশাসন ও খোকসার প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া হয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী, আমাদের অপরাধ আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি। এটাই আমাদের অপরাধ।

আমি নির্বাচনে ভোট গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছি। হাইকোর্ট গ্রহণ করেছেন। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনঃগননা হবে। আমি বিজয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আগের জেলা প্রশাসককে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি কারণ, গর্ভমেন্ট আমাদের। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এরকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।

আরও পড়ুন

×