সাবেক ক্রিকেটার একা মল্লিকের জমি ও মন্দির দখলের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভিআইপি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ক্রিকেটার একা মল্লিক
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৫৪ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৮:০০
ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় দলের সাবেক নারী ক্রিকেটার একা মল্লিকের নিজস্ব কালীমন্দির ও বসতভিটা জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভিআইপি হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন একা মল্লিক। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক ক্রিকেটার একা মল্লিক জানান, ২০১৮ সালে তাঁর ভাই অনিক মল্লিক পৌর শহরের গোবিন্দনগর উড়াওপাড়া এলাকায় ২.৫ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তারা একটি বসতবাড়ি ও নিজস্ব কালীমন্দির নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। একার বাবা শংকর মল্লিক ওই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মন্দিরের ক্ষতি হলে সেটি ঘরের ভেতর স্থাপন করে তারা নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছিলেন।
একা মল্লিক অভিযোগ করেন, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর প্রতিবেশী দিপালী খালকো দিপা ও তাঁর ভাই গোপাল খালকোর নেতৃত্বে এক দল লোক তাদের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা একার বাবা শংকর মল্লিক ও মা প্রীতি মল্লিককে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যচেষ্টা চালায়। পরবর্তী সময়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। শুধু তাই নয়। রাতের আঁধারে মন্দিরের তালা ভেঙে আসবাব ও মালপত্র লুট করে সেখানে নিজেদের তালা লাগিয়ে দিয়ে জমিটি জবরদখল করে নেয়।
জমি দখল বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেয় একার পরিবার। গত ২৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ শাখা থেকে সরেজমিন তদন্ত শেষে জানানো হয়, একা মল্লিকদের জমির মালিকানা ও যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক। কিন্তু তদন্ত চলাকালে পুলিশের সামনেই একার বাবা-মাকে পুনরায় মারধর করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সহযোগিতার আকুতি জানিয়ে একা মল্লিক বলেন, ‘পৌরসভার কর, খাজনা, খারিজ, খতিয়ানসহ জমির সব বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও আমরা আজ নিজ ভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পথে। দখলদারদের হাত থেকে আমাদের বসতভিটা ও পবিত্র মন্দিরটি মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে একার পরিবারের সদস্যসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
