অবৈধভাবে মাটি তোলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা, প্রশাসন নির্বিকার
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নদীর চর থেকে কাটা মাটি ট্রাক্টর ও ট্রলিতে করে পাঠানো হচ্ছে বিক্রির জন্য সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাস জায়গা ও নদীর তীর থেকে এক্সক্যাভেটর দিয়ে অবৈধভাবে চলছে মাটি উত্তোলন। এই মাটি ট্রাক্টর ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে বিক্রির জন্য। বেপরোয়াভাবে এই মাটি উত্তোলন আর এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও পূর্ববর্তীসহ বর্তমানে আরও একাধিক চক্র সক্রিয় হয়েছে এই মাটি লুটের কারবারে। এই মাটি ক্রেতা ও স্থানভেদে প্রতি ট্রাক্টর এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতাসীন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে মাটি লুট। এদিকে ক্রমাগত মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ও খাসভূমি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ পুষে রাখলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার বাঁশমহাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইঞ্জিনচালিত ট্রলি ও ট্রাক্টর দিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অন্তত ২০০ গাড়ি মাটি বিক্রি করছে চক্রটি। এ ছাড়াও সদর ইউনিয়নের কুশিয়ারা শাখা নদীর তীর, আজমিরীগঞ্জ পৌর নৌ টার্মিনাল ঘাটসংলগ্ন এলাকার নদীর চরসহ বিভিন্ন সরকারি খাসভূমি থেকে অবাদে চলছে মাটি কাটা। এসব মাটি ট্রলি ও ট্রাক্টরযোগে পরিবহন করায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দিন-রাত প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে এমন মাটি কাটা চললেও তাদের দিক থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সরকারি খাসভূমি, নদীর চরসহ বিভিন্ন স্থানে নজর পড়েছে মাটিখেকোদের। এদের এখনই রোধ করা না গেলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর মিয়া বলেন, চক্রটির সদস্যরা অবৈধভাবে মাটি কেটে লাভবান হচ্ছে কিন্তু ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। রাস্তাঘাটের ক্ষতির পাশাপাশি নদীর চরগুলো পুকুরে পরিণত হচ্ছে। রইছুল মিয়া বলেন, প্রতি ট্রাক্টর মাটি ১ হাজার বা তার কিছু বেশি দামে বিক্রি হয়। কাটা হয় সরকারি জমির মাটি। যে কারণে দিন দিন প্রভাবশালীরা এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
মনিরুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আজমিরীগঞ্জ সুজনীখাল থেকে উপজেলা পরিষদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রাস্তার দিকটা ট্রাক থেকে কাটা মাটি পড়ে বৃষ্টির জলে মিশে বেশি পিচ্ছিল হচ্ছে। প্রতিদিনই বাস, ট্রাক, রিকশা-টমটম চলাচলে বেঘাত ঘটাসহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। উপজেলা প্রশাসন থেকে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করা হলেও থেমে নেই মাটিখেকো চক্রটি। এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ ইউএনও এস.এম রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- মাটিকাটা
