ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্মাণের ৩ বছরেও চালু হয়নি ট্রাক টার্মিনাল

নির্মাণের ৩ বছরেও চালু হয়নি ট্রাক টার্মিনাল
×

 উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাঁচলিয়ায় তিন বছর আগে দূরপাল্লার বাস-ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক সুবিধাসংবলিত একটি টার্মিনাল ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালটি এখন পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চালকরা। অন্যদিকে, রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 
ট্রাক টার্মিনালটিতে প্রায় ১০০টি ট্রাক পার্কিং সুবিধা, চালক ও হেলপারদের জন্য শয়নকক্ষ, ক্যান্টিন, গোসলখানা, নামাজের স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষ, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রাক টার্মিনাল ও বিশ্রামাগারটি বর্তমানে দেখভালের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। টার্মিনালের খোলা জায়গায় স্থানীয়রা কখনও ধান শুকান, আবার কোথাও গরু বেঁধে রাখেন। ইতোমধ্যে টার্মিনালের ভবনের কাচ ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে বা চুরি গেছে। রাতের বেলায় সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। বিশ্রামাগারটি চালু হলে দূরপাল্লার চালকদের দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি দূর হবে। সেই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে এবং সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে। তাই দ্রুত টার্মিনালটি চালুর দাবি জানান তারা। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সিরাজগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে দেশের চারটি মহাসড়কের পাশে আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২০ সালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উল্লাপাড়ার পাঁচলিয়ায় ১৩ দশমিক ৫৬ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এ ট্রাক টার্মিনাল। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করে বিশ্রামাগার ভবন দোতলা থেকে চারতলায় উন্নীত করা হলে ব্যয় আরও ১৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত  নির্ধারণ করা হয়।  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ট্রাক টার্মিনাল ও বিশ্রামাগার নির্মাণ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড ও মেসার্স সাগর বিল্ডার্স। 

আলমগীর হোসেন নামের রংপুর থেকে ঢাকাগামী এক ট্রাকচালক বলেন, সরকারের এমন উদ্যোগ দেখে ভালো লেগেছিল, কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি এই টার্মিনাল। ফলে দূরপাল্লার চালকদের কোনো কাজে আসছে না এটি। অনেক চালকের ঘুম পেলে রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে ঘুমাতে হয়। এতে চুরি-ডাকাতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। বিশ্রামাগার চালু হলে নিরাপদে বিশ্রাম নেওয়া যেত এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। 
ট্রাকচালক মোন্নাফ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কাছে হাটিকুমরুল এলাকায় তাদের জন্য একটি বিশ্রামাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি পূরণ করার পরেও বিশ্রামাগারটি চালু না করায় প্রাপ্য সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তাদের  প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, টার্মিনালটি এখনও চালু না হওয়ায় চালকরা বিশ্রামের সুবিধা পাচ্ছেন না। টার্মিনালটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুন

×