ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাহ আমানত বিমানবন্দরের কর্মচারী হত্যা মামলা

কেপিআই এলাকায় খুনে রহস্যময় তদন্ত

কেপিআই এলাকায় খুনে রহস্যময় তদন্ত
×

ওসমান সিকদার

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:২২ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর খুনের এক মামলায় রহস্যময় তদন্ত করেছে পুলিশ। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকায় সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী ওসমান সিকদার খুনের মামলায় বিমানবন্দর পরিচালকের পিএ আবদুল করিমের নাম উঠে আসে। এক আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সিভিল এভিয়েশনের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম জড়ায়। কিন্তু আদালতে দাখিল করা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নাম আসামির কলামে নেই; বাদ দেওয়া কলামেও নেই।

জবানবন্দিতে নাম এলেও কেন তাদের আসামি করা হয়নি কিংবা বাদ দেওয়া কলামেও নাম নেই– তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এসব ত্রুটি চিহ্নিত করে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠিয়েছেন আদালত।  

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার ইন্সপেক্টর ফরিদুল আলম বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি তার আলোকেই প্রতিবেদন দাখিল করেছি। পূর্বশক্রতা থেকে বিরোধের জেরে বিমানবন্দরের কর্মচারী ওসমান খুন হন।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত ওসমান সিকদার খুনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন। তিনি পুলিশি তদন্তের ফাঁকফোকর ও অসংগতি দেখতে পান। তাই ঘটনার অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। শুনানি শেষে তিনি মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করেন, খুনের ঘটনার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী ইব্রাহিম খলিল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে তিনি জানান, বিমানবন্দর পরিচালকের পিএ আবদুল করিম, ফায়ার অফিসার শরীফ, নিরাপত্তা অপারেটর জাবেদ ও জামান, সিকিউরিটি অফিসার নজরুল ইসলাম ও এনাম, নিরাপত্তা অপারেটর মাহফুজ, মহিউদ্দিন, আলাউদ্দিন-১ ও আলাউদ্দিন-২ বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালানে জড়িত। চোরাচালানের বিরোধের জেরেই সিভিল এভিয়েশনের আরেক কর্মচারী ওসমান সিকদার খুন হয়েছেন। খুনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাই মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালত দীর্ঘ শুনানি ও পর্যালোচনা শেষে পুলিশি তদন্তের ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে এ আদেশ দেন আদালত। 

আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘জবানবন্দিতে নাম আসা ব্যক্তিদের তদন্তে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। আবার তাদের নির্দোষ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়নি। তাই আদালতের কাছে তদন্তটি যথাযথ ও সঠিক বলে বিবেচিত হয়নি।’  

শাহ আমানত বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকায় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ওসমান সিকদার খুন হন। অভিযোগ করা হয়, পূর্ববিরোধের জেরে জাহেদুল, সোহেল, সুমন প্রাইভেটকার নিয়ে কেপিআই হিসেবে চিহ্নিত বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকায় যান। সেখানে ব্যাচেলর কোয়ার্টারে তারা ওসমানকে আত্মসাৎ করা চোরাচালানের বিদেশি মুদ্রা ফেরত দিতে বলেন। তর্কের এক পর্যায়ে জাহেদুল, সোহেল, সুমন ওসমানকে মারধর করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মারা যান তিনি। পরে তাদের প্রাইভেটকারে  লাশ বিমানবন্দরের কোয়ার্টার থেকে বের করে পতেঙ্গা সাগরপাড় এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান তিনজন। এ ঘটনায় ওসমান সিকদারের ভাই মোহাম্মদ এমরান সিকদার বাদী হয়ে ১২ ডিসেম্বর পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ওসমান খুনে এভিয়েশনের দুই কর্মচারী ইব্রাহিম খলিল, বাদল মজুমদার ছাড়াও ফটিকছড়ির নানুপুরের মোহাম্মদ রাসেল, হাটহাজারির মেখল মুহুরী বাড়ির মোহাম্মদ আরিফ, ফটিকছড়ির উত্তর রাঙামাটিয়ার মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, একই এলাকার নজরুল ইসলাম সোহেল, ফটিকছড়ির মধ্যম কাঞ্চননগরের মো. সুমন ও একই এলাকার নুর মোহাম্মদ বাবর চৌধুরীকে আসামি করা হয়। তারা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওসমানকে হত্যা করে লাশ ও আলামত গোপন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে পুলিশ। 

আরও পড়ুন

×