রাজনীতি নিষিদ্ধ বেরোবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের আলোচনা সভা, হট্টগোল
প্রক্টরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। ছবি: সমকাল
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:১০ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:১১
রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একাংশ ও প্রক্টরের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। এসময় প্রক্টর ও শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একদল শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও পোস্টারের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। এর একপর্যায়ে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে বেরোবি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের একাংশ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। এসময় প্রক্টর দু’পক্ষকে আলাদা করে দেয়।
তবে পরবতীতে যখন তারা আবার স্লোগান দেয় ও আলোচনায় ঢোকার চেষ্টা করে তখন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা বাধে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ও সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখ যাচ্ছে, নামে বেনামে বিভিন্ন সংগঠন কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আজকে আমরা লক্ষ্য করেছি, জাতীয়তাবাদী ফোরাম সংগঠনের নামে রাজনৈতিক একটি প্রোগ্রাম এখানে হচ্ছে। কিন্তু প্রক্টর তা অস্বীকার করেছে। এটা রাজনৈতিক সংগঠন না।
নিবন্ধিত সংগঠন ছাড়া অন্য সংগঠন এখানে কেউ প্রোগ্রাম করতে পারে কিনা। এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান তিনি। এছাড়াও উল্টো আমাকে এনসিপি, শিবির বলে ট্যাগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, আমি একটি ব্যানার দরজায় দেওয়ার চেষ্টা করি। তখন, ছাত্রদলের একজন তা ছিঁড়ে ফেলে। এরপর বাকবিতণ্ডা হয়। প্রক্টর স্যার দুই পক্ষকে আলাদা করে দেয়্। আমরা এখানে বসছিলাম যে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কমকাণ্ড হতে দেওয়া যাবে না। পরবর্তীতে আমরা স্লোগান দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। যা ভুল কথা। পুরো বাংলাদেশ জানে, জাতীয়তাবাদী ফোরামগুলো কারা পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে বেরোবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, ব্যানার কে ছিঁড়ছে, কেন ছিঁড়ছে- এ বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি এ বিষয়ে আমাদের দলের কারও নামে অভিযোগ আসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ভেবে দেখব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ২০০৮ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে কোনো সংগঠনের নিবন্ধন নেই। আজকে যে প্রোগ্রাম হচ্ছে তার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত।
সাংবাদিকদের প্রোগ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়নি। ওই সময় প্রোগ্রামটা তখনও ভালোভাবে শুরু হয়নি। এ জন্য আমরা পরে আসতে বলেছি।
- বিষয় :
- বেগম রোকেয়া
