ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনে চলছে ট্রেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
শাহারুল আলম, জয়পুরহাট
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
পশ্চিমাঞ্চল রেললাইনে জয়পুরহাট অংশে দীর্ঘদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগরসহ নিয়মিত ট্রেন। এই রেলপথের বিরামপুর রেলগেট থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত দুর্বল লাইনে ধীর গতিতে চলাচল করতে
হয় ট্রেনগুলোকে। ঝুঁকিপূর্ণ এ অংশে রয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
রেলপথের এ অংশের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার অংশের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় থাকলেও সেগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় যে কোনো সময় লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৬৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার রেললাইনে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে প্রায় এক ডজন আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন মেইল ট্রেন। এ পথে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর, জামালগঞ্জ; পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি, বাগজানা; দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি হাকিমপুর অংশে রেললাইনের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে রড বের হয়ে আছে। অনেক জায়গায় রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও নেই। আবার রেললাইনের জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে। জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকায় চলাচলের সময় ট্রেনের প্রেশারে রেললাইন ওঠানামা করে বিপজ্জনকভাবে।
মাঝে মাঝে লাইনের এ অংশে কোনো রকম মেরামত করা হলেও তাতে ঝুঁকি কমছে না। ঝুঁকিপূর্ণ এই লাইনের কারণে গত ঈদুল ফিতরের মাত্র দুদিন আগে ১৮ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী। এর পর থেকেই এই অংশে ধীর গতিতে যাতায়াত করছে ট্রেনগুলো।
রেললাইন পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলার কোকতারা গ্রামের কৃষক আজমল, রফিকুল, ফরিদুল, মোজাহিদসহ কয়েকজনের অভিযোগ, রেললাইনের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার অংশজুড়ে কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেলেও মেরামত করা হয়নি। লাইনের নিচে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ট্রেন পার হওয়ার সময় বিভিন্ন স্থান দেবে যায়। এ ছাড়া লাইনের পাথরগুলোও আর আগের মতো পরিষ্কার করে না রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৬৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার রেললাইন দেখভাল করার জন্য যে সংখ্যক জনবল প্রয়োজন, তার অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কেউ নেই। ১০ জন কি-ম্যান পদ দীর্ঘদিন খালি। অথচ এই কি-ম্যানদের দায়িত্ব হলো প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন চেক করে রিপোর্ট করা। আবার চারজন ট্রলিম্যানের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে আছেন একজন। বেলোম্যানের দুটি পদই খালি। হ্যামারম্যান থাকার কথা তিনজন; আছেন একজন। ফলে ইচ্ছা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে লাইন মেরামত করা যায় না।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করে যাত্রীদের ট্রেনযাত্রা নিরাপদ করতে কাজ করছেন তারা। ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ সার্বক্ষণিক পরিদর্শনসহ স্থায়ী সংস্কারে ইতোমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হলে ট্রেন চলাচল নিয়ে সব ধরনের শঙ্কা কেটে যাবে।
- বিষয় :
- রেললাইন
