ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

করতোয়া নদী ও ফসলি জমির মাটি কেটে লুট

করতোয়া নদী ও ফসলি জমির মাটি কেটে লুট
×

গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের চর রহিমাপুর উত্তরপাড়ায় করতোয়া নদী থেকে বালু তুলে নিচ্ছেন শ্রমিকরা সমকাল

 গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর চর ও কৃষিজমির মাটি কেটে অবাধে বিক্রি করছে মাটিদস্যুরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তা ‘লোক দেখানো’। ফলে বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা বাড়ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হাতিয়াদহ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. মামুনের নেতৃত্বে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও তিন ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এতে অন্তত ৩০০ বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। কাটাখালী ব্রিজের আশপাশে চাঁন মিয়া ও রকি মিয়ার নেতৃত্বে একইভাবে মাটি কাটা চলছে।
পৌর এলাকার বোয়ালিয়া গ্রামে পলাশ মিয়ার নেতৃত্বে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খুঁটির পাশে বালু উত্তোলন করায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া সাহেবগঞ্জ মেরী, ফকিরগঞ্জ নরেঙ্গবাদ, পলুপাড়া, ফুলহার, ধর্মপুর, বড়দহ ব্রিজ এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান দুলু, শাহ আলমসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। অবৈধভাবে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী মো. এনামুল বলেন, ‘প্রশাসন সাধারণত আসে না, তবে অভিযোগ হলে অভিযান চালায়।’ অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মামুন বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই এসব চলছে।’ একই ধরনের মন্তব্য করেন পলাশ মিয়া।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এমএ মতিন মোল্লা বলেন, ‘এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, ‘অভিযান চলমান রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×