চার শিক্ষার্থীকে নির্যাতন মাদ্রাসার শিক্ষকদের শাস্তির দাবি
মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি : সমকাল
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:২৫
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জৈনতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় চার শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার ও এলাকাবাসী।
পরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মো. জাকারিয়া ও মো. নান্দান এবং আলালপুরের সোহেল নামের এক ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। এসময় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেন বলে, সামান্য কারণে নান্দান ওস্তাদ আমার পায়ের ওপর উঠে ২ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি চিৎকার করলেও তিনি শোনেননি। উল্টো আমাকে বেত দিয়ে মারধর করেছেন।
আরেক শিক্ষার্থী সুয়েব হোসেন বলে, পড়া না পারায় জাকারিয়া হুজুর আমাকে বেত দিয়ে ৮-৯টা বাড়ি দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, তোকে মেরেই ফেলব, হয়তো তুই মাদ্রাসায় থাকবি না হয় আমি থাকব। একই অভিযোগ নির্যাতনের শিকার অন্য দুই শিক্ষার্থী জুনায়েত কাজী ও সিফাতের। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক কারনে অকারনে তাদের নানাভাবে নির্যাতন করেন বলে জানায় তাঁরা।
মানববন্ধনে জুনায়েত কাজীর বাবা মুন্নু কাজী বলেন, আমার ছেলেকে অমানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন হুজুররা। আমি মাদ্রাসার প্রধানের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এখন। আমরা চাই অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার হোক, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর কোন শিক্ষার্থীদের সাথে না ঘটে। দুই একজন শিক্ষকের জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হতে পারে না।
কাজী জুনায়েতের মা জান্নাতুল আক্তার বলেন, আমার ছেলে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়তেই কান্নাকাটি করত। এ কারণে আমার ছেলেকে মারধর করেন শিক্ষকরা। এ ঘটনার দুদিন পর গোসলে দেরি হওয়ায় শিক্ষক জাকারিয়া আমার ছেলেকে কান ধরে উঠ-বস করায়। দুই কান টেনে ধরে রাখায় কান দিয়ে রক্ত বের হয়।
মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেনের মা সুমি আক্তার বলেন, ওরা ছোট মানুষ। আমার ছেলেকে দুষ্টুমি করায় শিক্ষক জাকারিয়া ওকে এক পায়ের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখে। লাঠি দিয়ে এমনভাবে হাতের মধ্যে আঘাত করে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশরাফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। মারধরের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কাজী জুনায়েতের বাবা উপজেলার কুমারবাড়িল্যা এলাকার মুন্নু কাজী।
অভিযোগের বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম বলেন, অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
