জ্বালানি সংকট-লোডশেডিং
সরকারের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে, কৃচ্ছ্রসাধনে এগিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫৮ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:০১
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংকট আছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট। আমরা জনগণের কথা বিবেচনা করে অনেক দেরিতে এবং খুব সামান্য পরিমাণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছি।
তিনি বলেন, সরকারের সামর্থ্যের একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কারণ সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হয়। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধনের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করছি। এখানে কোনো লুকোচুরি নেই। দেশ সবার, শুধু একটি দলের নয়। তাই সবকিছু জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির রাজনীতি একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই দায়িত্ব পেয়েছি। তাই এই পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না।
সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়কে দলীয়ভাবে দেখার সুযোগ নেই। সমাজে সবসময় কিছু অশৃঙ্খল ব্যক্তি থাকে, যারা বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এদের আইনই মোকাবিলা করবে এবং এখানে কোনো ধরনের দলীয়করণের সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চার জায়গা। এখানে বাইরের কোনো বহিরাগত যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করবে—দলীয়করণ বা অরাজনৈতিক কার্যক্রমের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারছে না এটি অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি।
ব্যাংকিং খাতের সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে: মন্ত্রী বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি এবং ধীরে ধীরে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। অতীতে বিএনপি সরকার প্রতিবারই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিল। আমরা এবারও তা করতে সক্ষম হব। তবে আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।
