ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা

কিলিং মিশনে থাকা জনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

কিলিং মিশনে থাকা জনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
×

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৫০

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন ওরফে জনি (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

জনি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে। জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, এর আগে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মো. সোহাগ (৩৪) ও মো. সুজন (৩২) আমড়াতলী এলাকার এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪) ও আড়াইওড়া এলাকার রাহাত হোসেন ওরফে জুয়েল (২৭)। গত রোববার রাতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। এ সময় ৪ আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিলেও গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন জনি জবানবন্দী দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জনিসহ ৫ আসামিই বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই টিটু কুমার নাথ সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনই পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা সবাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আসামিরা এ হত্যাকাণ্ড ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ময়নাদন্তের রিপোর্ট আসার পরই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। 

গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে বাসযোগে কুমিল্লা শহরতলীর জাগুরঝুলি এলাকায় নেমে নগরীতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি খুন হন। যাত্রী সেজে সিএনজিতে বসে থাকা ছিনতাইকারীদের সঙ্গে গাড়িতে উঠলে অস্ত্রের মুখে তার মোবাইল টাকা পয়সা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন শনিবার সকালে হাইওয়ে পুলিশ কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

×