ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে জীর্ণ ঘরে রেখেছেন ছেলে

জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে  জীর্ণ ঘরে রেখেছেন ছেলে
×

জানালাবিহীন মাটির ঘরে রাখা হয়েছে জমসের আলীকে। গতকাল তোলা সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন জমসের আলী। এর মধ্যে আবার কয়েক বছর আগে মাটিতে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে যায়। স্ত্রীকে হারিয়েছেন বেশ আগে। হাঁটাচলা করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে আব্দুস সালামের সংসারে ঠাঁই হয় তাঁর। শেষ পর্যন্ত ছেলের সংসার থেকেও বিতাড়িত হয়েছেন। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জমসের আলীকে রাখা হয়েছে জীর্ণ একটি মাটির ঘরে। ওই ঘরে দরজা নেই, জানালা নেই, বিদ্যুতের সংযোগ নেই। একাকী নিঃসঙ্গ ওই জীর্ণ কুটিরে পড়ে আছেন ৮০ বছরের জমসের। 
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে শুয়ে জমসের হাউমাউ করে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বলেন, আমাকে ফেলে রেখে ছেলে আর ছেলের বউ কই যেন গেছে। খাবার দিয়ে যায়নি। 

তিনি জানান, কৃষিকাজ করে সংসার গড়ে ছিলেন। ১৮ শতাংশ জমিও কিনেছিলেন। স্ত্রীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর ওই ১৮ শতাংশ জমি ছেলে ও পুত্রবধূ জোর করে তাদের নামে লিখে নেয়। পরে ভাঙা এই ঘরে জায়গা দেয় তাঁকে। 
জমসের আলী চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমি জাহান্নামের আগুনে জ্বলছি। এর চেয়ে আমার মরণই ভালো ছিল। ছেলের বউ মর্জিনা আক্তার কৌশল করে আমার ছেলের নামে বাড়ি ভিটা লিখে নিয়েছে। আমি মরলে তো সব ওইই পাবে। এভাবে আমাকে নির্যাতন করার কি দরকার ছিল? 

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই ওই বৃদ্ধকে পরিত্যক্ত মাটির ঘরে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। স্যাঁতসেঁতে ওই ঘরে কোনো মানুষ বসবাস করতে পারে না। 
প্রতিবেশীরা বলেন, অসুস্থ জমসের আলীকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না, মাসের পর মাস গোসল করানো হয় না। এক প্রতিবেশী বলেন, এই অসহায় অবস্থা আমরা সহ্য করতে পারছি না। জমসের আলীর জন্য যদি কেউ খাবার নিয়ে গেলে পুত্রবধূ গালাগাল করেন। 
দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অভিযুক্ত ছেলে আব্দুস সালাম ও পুত্রবধূ মর্জিনার সঙ্গে দেখা হয়নি। তারা বাড়িতে ছিলেন না। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বয়সে এসে একমাত্র ভরসার জায়গা ছেলের এমন আচরণ আমাকে ব্যথিত করেছে। বিষয়টি আমি সমাধানের চেষ্টা করছি। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ওই বৃদ্ধকে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×