ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মৎস্য

হালদায় প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে মাছ

হালদায় প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে মাছ
×

নৌকা ও বাঁশের ভেলা নোঙর করে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আজিমেরঘাট থেকে তোলা -সমকাল

 রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৯:১৪ | আপডেট: ০১ মে ২০২৬ | ০৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ডিম ছাড়ে মা মাছ। নদীর নাপিতের ঘাট থেকে নয়াহাট পর্যন্ত ডিম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংগ্রহকারীরা। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, একেকটি নৌকায় সংগ্রহকারীরা দিনের বেলায় গড়ে দুই-তিন বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন। রাতে (গতকাল) পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নদীর ধারে গিয়ে দেখা যায়, সংগ্রহকারীরা নৌকা ও বাঁশের ভেলা নোঙর করে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছেন। আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, নয়াহাট, গড়দুয়ারা, সিপাহি ঘাট, মাদার্শা, আমতুয়া, মোবারখীল ও কাগতিয়া এলাকায় নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহের যেন উৎসব চলছে।

সংগ্রহ করা ডিম	সমকাল

আজিমের ঘাট এলাকার শফিউল আলম দুপুর ২টার দিকে জানান, দুই নৌকায় দুই বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন তিনি। একই এলাকার মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, দুই নৌকায় ছয় বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন। হাটহাজারী উপজেলার কামরুল ইসলাম জানান, এক নৌকায় দেড় বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন। গড়দুয়ারা এলাকার কামাল উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বজ্রপাতসহ পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শুরু হলে রাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে।

হালদা নিয়ে গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পূর্ণিমার জো শুরু হয় গত বুধবার, চলবে রোববার পর্যন্ত। এই জোতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢল হালদায় নেমে আসে। এতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে কয়েকটি স্থানে এক-দুটি ডিম পাওয়া যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের সময় আজিমেরঘাট ও এর নিচের অংশে কার্প জাতীয় মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। তবে এখনও পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। যেহেতু পূর্ণিমার জো চলছে, তাই রাতে (গতকাল) বৃষ্টিপাত হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম সমকালকে বলেন, বুধবার রাতে নমুনা ডিম ছাড়ার পর সকালে ধীরগতিতে মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংগ্রহকারীদের ডিম সরকারি তিনটি হ্যাচারি ও বেসরকারি একটি হ্যাচারিতে ফোটানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ বছরে  হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৬৯০ কেজি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৭ সালে  ২২ হাজার ৩১৪ কেজি, ২০০৮  সালে দুই হাজার ৪০০ কেজি, ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০১৭ সালে এক হাজার ৬৮০ কেজি, ২০২৪ সালে এক হাজার ৬৮০ কেজি ও ২০২৫ সালে ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×