ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

২১ দিন বয়সে মা চলে যান অন্যত্র, গণপিটুনিতে নিহত হান্নানের মেয়ের কী হবে 

২১ দিন বয়সে মা চলে যান অন্যত্র, গণপিটুনিতে নিহত হান্নানের মেয়ের কী হবে 
×

গণপিটুনিতে নিহত হান্নানের মেয়ে মুসলিমা ইসলাম

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০০:০৫ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১০:০৬

জন্মের ২১ দিনের মাথায় মা ছেড়ে চলে যান। আর দুই বছর পেরোতেই গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন বাবা। মাত্র ২৫ মাস বয়সেই একা হয়ে গেল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈরের ছোট্ট শিশু মুসলিমা ইসলাম। এখন তার ভরসা শুধু বৃদ্ধ দাদা-দাদি– যাদের চোখে এখন শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর গ্রামে নিহত ট্রাকচালক হান্নান শেখের বাড়িতে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বাড়িতে মাতম, স্বজনদের কান্না আর মানুষের ভিড়ের মাঝেই কিছু না বুঝে কখনও দাদির কোলে, কখনও অন্য স্বজনের কোলে কোলে ঘুরছে মুসলিমা। ফিডারে দুধ খাচ্ছে, সবার কান্নাকাটি দেখে হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মুসলিমার মা আরিফা বেগম শিশুটির জন্মের ২১ দিন পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে দাদা শাহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগমই তাকে লালন-পালন করে আসছেন।

দাদি নার্গিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মা ২১ দিন বয়সেই চলে গেছে, এখন বাপও নেই। আমার মুসলিমার কেউ রইল না। আমি মরে গেলে এই বাচ্চার কী হবে?

নিহত হান্নান শেখের বাবা শাহিদ শেখ বলেন, আমার ছেলে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। সে অপরাধ করে থাকলে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো। এখন এই বাচ্চার ভবিষ্যৎ কী?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়– এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ‘ট্রাকটি ২০ জনকে চাপা দিয়েছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ইট-ব্লক ফেলে রাস্তা অবরোধ করে ট্রাকটি থামায়। পরে চালক হান্নান শেখকে (৪৫) নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ট্রাকের দুই হেলপার নাঈম ও আল-আমিন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গুজব ছড়িয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে হান্নানকে। এ ঘটনায় সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ছোট্ট মুসলিমা। মা-বাবাহীন এই শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বৃদ্ধ দাদা-দাদির পক্ষে কতদিন তার দায়িত্ব বহন করা সম্ভব– তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। 

স্থানীয়রা বলছেন, শিশুটির জন্য সরকারি ও সামাজিক সহায়তা জরুরি।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রসুল সামদানী আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা নিহতের পবিবারকে হত্যা মামলা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। মামলা হবে। তারা জানিয়েছে, লাশ দাফন শেষে তারা মামলা দেবে।

আরও পড়ুন

×