বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ হাজার মিলিয়ন ডলার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ২১:৫২
বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২৪ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সাত হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮টি দেশের বাণিজ্য ঘাটতির তালিকা সংসদে তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
তিনি আরও জানান, ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে এক হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছে নয় হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি তিন হাজার ৫৮৯ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৪৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই হাজার ৮০২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে দুই হাজার ৪৫০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার, কাতারের সঙ্গে দুই হাজার ১০৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুই হাজার ১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানসহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও জিএসপি প্লাসে জোর
সংরক্ষিত আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য ইউরোপীয় কমিশনের ট্রেডবিষয়ক ডাইরেক্টর জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সরকার আশা করছে।
- বিষয় :
- বাণিজ্যমন্ত্রী
- জাতীয় সংসদ
