‘কাগুজে সভাপতি’ কোটি টাকার প্রকল্পে, মাঠে পিআইওর নিয়ন্ত্রণ
মাজহারুল আলম মিলন, পীরগঞ্জ (রংপুর)
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১১:২৫ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ | ১১:৩৬
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর/কাবিখা-কাবিটা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম ব্যবহার করে কাগজে-কলমে প্রকল্প কমিটি গঠন করা হলেও বাস্তবে অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি প্রকল্প নিজেই নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন করছেন। এসব অনিয়মের পেছনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার তদারকির ঘাটতি– এমনকি অনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে টিআর (কাবিটা-নগদ) প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে ৭২টি প্রকল্প অনুমোদন পায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ তদারকি করার কথা। বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
সরেজমিনে ঘুরে ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প তালিকার ক্রমিক ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৭, ৬৯, ৭০সহ অন্তত ১৫টির বেশি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। পিআইও অফিসের কর্মচারী দরশন চন্দ্র, আতিক ও ফরহাদ হোসেন সরাসরি কাজ তদারকি করছেন।
চতরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, ‘আমাকে সভাপতি করার জন্য ছবি ও এনআইডি নিয়েছিল। কিন্তু কাজ অফিসের লোকজন করেছে। শুধু বিল তোলার সময় সই নিয়েছে।’ কাবিলপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রীমা বেগম বলেন, ‘আমি শুধু নামেই সভাপতি। কাজের কিছুই জানি না। অফিসের লোকজন এসে কাজ করে চলে যায়।’
এ বিষয়ে পিআইও আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করি না। কিছু সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকল্প নিজে করার সুযোগ নেই, তবে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।’ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পিআইও এবং ইউএনওর। তবে পিআইওর নিজে কাজ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।’ এ সময় তিনি উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন বলেন, ‘পিআইও নিজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন কিনা– তা আমার জানা নেই। কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- রংপুর
