চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম, ইউরিয়া পাচ্ছেন না চাষিরা
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১২:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইউরিয়া সার সংকটে পড়েছেন ফুলবাড়িয়া উপজেলার আনারস, কলা ও সবজি চাষিরা। বৃষ্টিপাত হলেই এসব ফসলে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার দিতে হয়। সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ভালো হয় না। বৃষ্টির পর এখন জমিতে সার দেওয়ার উপযুক্ত সময়। কিন্তু স্থানীয় ডিলারদের কাছে ইউরিয়া সার পাচ্ছেন না চাষিরা।
এবার ৭০ হাজার আনারসের চারা রোপণ এবং দুই একর জমিতে কলা চাষ করেছেন নাওগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনারস চাষি ইউসুব আলী। নিজ এলাকার ডিলারদের কাছে সার না থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে বেশি দামে পাশের উপজেলা থেকে সার কিনতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর ভাষ্য, বৃষ্টিপাত হলেই আনারস, কলা ও সবজি ক্ষেতে সার দেওয়ার মুখ্য সময়। সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ভালো হবে না। বৃষ্টি হয়েছে, এখন আনারস ও কলা বাগানে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার দিতেই হবে। কিন্তু নাওগাঁও ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলারের কাছে সার নেই, বিএডিসি ডিলারের কাছেও পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে পাশের উপজেলা মধুপুর, ঘাটাইল থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বস্তার ইউরিয়া সার ১ হাজার ৭০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের কলা ও আনারস চাষি সুরুজ মিয়া জানান, এই মুহূর্তে তাঁর ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার দরকার। তাদের ইউনিয়নের কেশোরগঞ্জ বাজারের বিসিআইসি ডিলার প্রাণতোষ চন্দ্র সাহা বলেছেন, সার নেই। গত মাসে মাত্র ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন, এক দিনেই শেষ হয়ে গেছে। চলতি মে মাসের বরাদ্দের সার এলে নিতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে– নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া, এনায়েতপুর ও বাক্তা ইউনিয়নে আনারস চাষ হয়েছে ৬৫০ হেক্টর, সবজি চাষ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর, কলা চাষ হয়েছে ১২০ হেক্টর। এসব এলাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার বস্তা ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার প্রয়োজন।
রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার লুৎফুন নাহার জানান, উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসির ৩২ জন ডিলার গত এপ্রিল মাসে ইউরিয়া ১৬৮ টন, টিএসপি ৬ দশমিক ১০ টন, এমওপি ৪৩ দশমিক ২০ টন এবং ডিএপি ৬ দশমিক ৩০ টন বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি ইউরিয়া সার পেয়েছেন মাত্র ২২০ বস্তা। কিন্তু এই সময়ে তাঁর বরাদ্দের ৪ গুণ বেশি ইউরিয়া সার প্রয়োজন কলা, আনারস, লেবু চাষিদের।
রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুঞ্জুরুল হক বলেন, তাঁর ইউনিয়নে কলা এবং আনারস চাষিদের জন্য চলতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার বস্তা সার প্রয়োজন। বিসিআইসি এবং বিএডিসি সার ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা বরাদ্দ একেবারেই কম পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে কৃষকদের জন্য একটা ব্যবস্থা করা হবে।
বিসিআইসি সার ডিলার শ্রী প্রনোতোষ চন্দ্র সাহার ভাষ্য, গত মাসে মাত্র ২০০ বস্তা ইউড়িয়া সার বরাদ্দ পেয়েছেন। কৃষকরা এক দিনেই তাঁর গুদাম খালি করে ফেলেছেন। তাঁর এলাকায় চলতি মাসে প্রায় ৩ হাজার বস্তা শুধু ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এই এলাকায় প্রচুর আনারস আর কলা চাষ হয়। বৃষ্টিপাত হলেই এসব চাষিদের সারের চাহিদা বেড়ে যায়। বরাদ্দ কম থাকায় সার দিতে পারেন না তারা। ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া, এনায়েতপুর ও বাকতা ইউনিয়নে ব্যাপক আনারস, কলা ও সবজি চাষ হয়। তাদের কথা চিন্তা করে সারের বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, এই মুহূর্তে ৪টি ইউনিয়নের বাইরে এই উপজেলার অন্য কোথাও সারের বেশি প্রয়োজন নেই। রাঙ্গামাটিয়া, নাওগাঁও, বাক্তা ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের কোনো কৃষকের সারের প্রয়োজন পড়লে তাদের জানালে অন্য ইউনিয়নের বরাদ্দ থেকে এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
- বিষয় :
- কৃষি
