ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিএনপি কর্মীকে হত্যায় ৫০ হাজার টাকা চুক্তি

আদালতে খুনিদের স্বীকারোক্তি

বিএনপি কর্মীকে হত্যায়  ৫০ হাজার টাকা চুক্তি
×

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপিকর্মী সোহেল রানাকে হত্যা করতে ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল হত্যাকারীরা। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য জানায় গ্রেপ্তার আসামিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন। 

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের সোহেল হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত বলেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ভেড়ামারা থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো. শাওন এই পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন এই তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়। 
হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সোহেল রানার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমনকে নিয়ে বৈঠক করে। এ সময় সুজন অগ্রিম হিসেবে ২৫ হাজার টাকা মহিনকে দেয়, বাদবাকি হত্যাকাণ্ডের পরে দেবে বলে জানায়। ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের স্থল রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের গ্রামের রাস্তায় নিয়ে যায় লিমন ও মহিন। সেখানে আগে থেকেই জাবুল ও তুষার হাঁসুয়া, রড ও ছুরি নিয়ে অবস্থান করছিল। তুষার হাঁসুয়া দিয়ে সোহেলের মাথায় পেছনে কোপ মারে এবং অন্যান্য আসামি এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সোহেলের গলায় একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে মহিন। 

পরে তুষার, মহিন ও অপর আসামি শাওন পাটখড়ি, পেট্রোল দিয়ে সোহেলের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মহিন, জাবুল ও খোকন মোটরসাইকেলে সুজন কানার বাড়িতে বাদবাকি টাকা আনতে যায়। পরে সে টাকা তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়।
২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের ধানক্ষেত থেকে সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রায় সম্পূর্ণটাই মিলে গেছে। তবে মূল আসামি সুজন কানা আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরে নিজেকে সরিয়ে নেয়। 

আরও পড়ুন

×