ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সামনে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষোভ

মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সামনে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষোভ
×

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিচ্ছেন মন্ত্রী-এমপিরা

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১২:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

এখনও হাওরের ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়নি, অথচ কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। জলাবদ্ধতার জন্য অনেক হাওরের ধান কাটা যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর অনেক অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রশাসনের তথ্যে সঠিক চিত্র ফুটে ওঠেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানবিক সহায়তা পান। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে ঢাকা থেকে সার্ভে টিম পাঠাতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় দুই মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেছেন জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভার শুরুতে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ ওমর ফারুক ক্ষয়ক্ষতির সচিত্র উপস্থাপন করেন। জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) সমর কুমার পাল বলেন, এখন পর্যন্ত ধান কর্তনের পরিমাণ ৮০ শতাংশ। প্লাবিত জমির পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টর, যা মোট আবাদের ৯ শতাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১৬ হাজার হেক্টর, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণে যা ১৯৬ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৫০ হাজার ৯১৩। এসব পরিবারের সদস্যসংখ্যা দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৬০। 

কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির তথ্যে ক্ষুব্ধ হন মিলনায়তনে উপস্থিত রাজনীতিবিদ, কৃষকসহ স্থানীয় বিশিষ্টজন। প্রতিক্রিয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, আমি এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ ও প্রত্যাখ্যান করছি। এত পরিমাণ ধান কাটা হয়নি। আমি অনুরোধ করব তারা যেন আপনাদের কাছে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করেন। 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আইনজীবী শেরেনুর আলী বলেন, সভায় ডিডি মহোদয় যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই। আমি মনে করি, ৫০ ভাগ ধানও কর্তন হয়নি। মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে ঢাকা থেকে সার্ভে টিম পাঠান। তাহলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সুনামগঞ্জের মানুষ উপকৃত হবে। 
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বলেন, বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রশাসনের তথ্যে সঠিক চিত্র ফুটে ওঠেনি। 

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, প্রকৃত ক্ষতির চিত্র কখনোই তুলে ধরা হয় না, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষ সহায়তার আওতায় আসে না। 
বিশেষ অতিথি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয় সেজন্য সরকার কাজ করছে বলে জানান। 

প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে। আর ঠিকাদার পোষা বা অর্থ লুটপাটের প্রকল্প হবে না। কার্যকর নয়, এমন উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে না। 

ভারপ্রাপ্ত সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল প্রমুখ। 
বিকেল ৩টায় মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের সূচনা করেন। 

কিশোরগঞ্জের হাওর পরিদর্শনে ত্রাণ সচিব 
কিশোরগঞ্জ ও মিঠামইন প্রতিনিধি জানান, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছেন। গতকাল তিনি ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সচিব জানান, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে তিন মাসব্যাপী অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে।সচিবের হাওর পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

আরও পড়ুন

×