ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিজ্ঞানীদের দলাদলিতে ব্রির গবেষণা স্থবির

৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ডিজি

বিজ্ঞানীদের দলাদলিতে ব্রির গবেষণা স্থবির
×

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

 সমকাল প্রতিবেদক ও গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:১৮ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যেই দেশের শীর্ষ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। নেতৃত্ব সংকট, দলাদলি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ধান গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত রোববার ব্রির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে ড. আমিনুল ইসলামকে রুটিন দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দীর্ঘ এক মাস ডিজিশূন্য থাকার পর এই নিয়োগ দেওয়া হলেও তা ঘিরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। আমিনুল ইসলামের নিয়োগে গাজীপুরে ব্রি ক্যাম্পাসে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ স্বাগত জানালেও, আরেক পক্ষ মূল ফটক, বিভিন্ন দপ্তর ও গবেষণাগারে তালা ঝুলিয়ে দেয়। গত দুই দিন ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে পুরো ক্যাম্পাসে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন ডিজি আমিনুল ইসলাম সোমবার পুলিশি নিরাপত্তায় প্রথম দিন অফিস করেন। তবে মাত্র এক দিনের মাথায় তাঁর নিয়োগ বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) আফসারী খানকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ব্রির মহাপরিচালকের শূন্যপদের বিপরীতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রির ৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল, যেখানে বিজ্ঞানীদের পরিবর্তে প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা কার্যত প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নিয়েছেন। 
ব্রির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প চলমান। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মে জড়িত। নতুন ডিজি নিরপেক্ষ হওয়ায় এই গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগার আশঙ্কা থেকেই তাঁকে ঘিরে বিরোধ তৈরি হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলেন, মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে তদবির করেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। নতুন ডিজির নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্রির বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন। যদিও তিনি গতকাল সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন

×