দেশে এলো ক্রুড অয়েলের জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ১৬:২০ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১৭:৩১
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েলের) প্রথম জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে আজ দুপুরে নোঙর ফেলে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি। এতে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আছে। দুইটি লাইটার ট্যাঙ্কার আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হবে এই ছোট লাইটারে। সেই তেল বন্দরের ডলফিন জেটিতে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে নেওয়া হবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে (ইআরএল)। এই ক্রুড অয়েলই ইআরএল সচল রাখার প্রধান কাঁচামাল। এটি পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ ১৩ ধরণের জ্বালানি উৎপাদন করে ইআরএল।
যুদ্ধ শুরুর দুই মাসের মধ্যে ক্রুড অয়েলের কোনো জাহাজ আসেনি দেশে। সর্বশেষ আড়াই মাস আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের জাহাজ নোঙর করেছিল চট্টগ্রামে। কাঁচামাল পর্যাপ্ত না থাকায় দেড় মাস ধরে ইআরএলে ব্যবহার করা হচ্ছিল পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় দুই তৃতীয়াংশে। ১৩ থেকে দুইয়ে নামিয়ে আনা হয় জ্বালানির ধরণও। এভাবে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার প্রহর গোণা ইআরএল অবশেষে ফিরে পাচ্ছে নবপ্রাণ। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এসেছে এই এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজটি।
ইআরএলে পরিশোধনের জন্য আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে জাহাজটিতে লোড করা হবে ক্রুড অয়েল। এরই মধ্যে জাহাজটি আমিরাতের পথে রওনা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চলতি মাসে আসতে পারে এটিও। তা যদি হয় তবে এই মাসে ক্রুড অয়েল আসতে পারে মোট দুই লাখ টন।
ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেল সময় মত না আসায় দেড় মাস ধরে পাইপ লাইনে থাকা ডেডস্টক তেল দিয়ে খুব সীমিত পরিসরে সচল রাখা হয়েছিল ইআরএলের উৎপাদন। ইআরএল কর্মকর্তারা বলছেন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া থেকে মহেশখালীর স্টোরেজ ট্যাংক এবং সেখান থেকে ইআরএল পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনের ভেতরে সব সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল জমা রাখতে হয়। পাইপলাইনের কার্যকারিতা এবং হাইড্রোলিক চাপ বজায় রাখতে যে সর্বনিম্ন পরিমাণ তেল ভেতরে থেকে যায়, তাকেই ডেডস্টক বা তলানির তেল বলা হয়। এই তেল সাধারণত উত্তোলন করা হয় না। জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে এতদিন সেই তেল দিয়ে কোনোরকমে চালু আছে রিফাইনারিটি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ দেশে নোঙর ফেলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ মে থেকে আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে ইআরএল।
বিএসসি'র মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, চলতি মাসের শেষে ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে এমটি ফসিল নামের আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ট্যাংকার জাহাজটি ফুজাইরা বন্দরের পথে রয়েছে।
তিনি জানান, ফুজাইরা থেকে ক্রুড লোড করা গেলে তা আর হরমুজ হয়ে আনা লাগবে না। ফুজাইরা থেকে এটি সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আনা যাবে। এমটি ফসিল জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী। এটির দৈর্ঘ্য ২৪৯ মিটার, প্রস্থ ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১৪ দশমিক ৯ মিটার। জাহাজটির ডেডওয়েট এক লাখ ১৫ হাজার ৭৬০ টন। জাহাজটি ২০২৪ সালে নতুন নাম ‘ফসিল’ ধারণ করে। এর আগে জাহাজটির নাম ছিল ‘ফস পিকাসো’।
হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কা থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে একটি ট্যাংকার জাহাজ। সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করেছিল এটি। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কখন এই জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউই। যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে আরেকটি ট্যাংকার জাহাজ তাদের বাংলাদেশমুখী যাত্রা বাতিল করে। এজন্য ক্রুড অয়েলের সংকট তৈরি হয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় রিফাইনারিটি।
