বিক্ষোভের মুখে সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টার সিলগালা
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সমকাল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ১৮:১৭ | আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ | ১৮:৪৪
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সাতক্ষীরায় একটি কোচিং সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের কলেজের এক শিক্ষকের সঙ্গে অশোভন আচরণের জন্য কোচিং সেন্টারটির পরিচালককে গ্রেপ্তারের দাবিও জানায়। এ সময় তারা কোচিংয়ে ভাঙচুরের চেষ্টাও চালায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে বেশ কিছুদিন ধরে সজীব বায়োলজি একাডেমি নামের একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন ডা. সজীব কুমার হরি। সেখানে কলেজ চলাকালেও ক্লাস হয়– এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সেখানে যান সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি সজীব কুমারকে ডেকে বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনে সজীব কুমার প্রভাষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলেন। বুধবার সন্ধ্যায় এমন একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী দলবেঁধে কোচিং সেন্টারে গিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা পড়াতে পারেন না বলে প্রচার করছেন ডা. সজীব। অথচ তিনি এখানেই পড়েছেন। স্যারের (প্রভাষক শহিদুল) হাত ধরে শত শত শিক্ষার্থী পাস করে বেরিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় সজীবকে গ্রেপ্তার করা উচিত। একই সঙ্গে কলেজ চলাকালীন কোচিং বন্ধের দাবি তোলেন তারা।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম বলেন, ‘আমাদেরই কলেজের শিক্ষার্থী ছিল সজীব। এ কারণে কলেজের সামনে কোচিং চালালেও তাঁকে কিছু বলা হয় না। কিন্তু এক শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভবেই মেনে নেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করা হয়েছে। সেখান একটি হার্ডডিস্ক ও একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ডা. সজীব পালিয়ে গেছেন।
