ঈশ্বরদীতে ব্যতিক্রমধর্মী বর্ষবরণ
বাংলা সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরল নতুন প্রজন্ম
বাঙালি সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর প্রকল্পসংলগ্ন স্বর্ণকলি বিদ্যাসদনের উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী বর্ষবরণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ২০:২৩
মাইকে ভেসে আসছে পুঁথিপাঠের সুর, উঠানে দল বেঁধে নারীদের বিয়ের গীত, সঙ্গে লোকসংগীত, বাউল আর নৃত্যের মুগ্ধতা—এ যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই চিরচেনা দিনগুলো ফিরে আসা। বাঙালি সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা বর্ষবরণ।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উপজেলার রূপপুর প্রকল্পসংলগ্ন স্বর্ণকলি বিদ্যাসদনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। শিশু-কিশোর, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত লোকজ উৎসবে।
বর্ষবরণের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠ ও বিয়ের গীত। প্রবীণ নারীরা দল বেঁধে ঐতিহ্যবাহী গীত পরিবেশন করলে মুগ্ধ হয়ে শোনে নতুন প্রজন্মের শিশুরা। পাঁচ শতাধিক শিশু ও তাদের অভিভাবকরা আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করেন বাঙালির শিকড়ের সংস্কৃতি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় লোকসংগীত, বাউল গান, লোকনৃত্য, আধুনিক গান ও নৃত্য। রঙিন সাজসজ্জা আর গ্রামীণ আবহে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলার ঐতিহ্য।
স্বর্ণকলি বিদ্যাসদনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠ ও গীতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। বাংলা বর্ষবরণ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের শিকড়ে ফেরার উপলক্ষ।’
অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী ও স্বর্ণকলির অধ্যক্ষ সামসুন্নাহার লিপি বলেন, ‘শিশুরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাই তাদের সামনে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং লেখাপড়ার একঘেয়েমি দূর করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলেজ শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ, আখতার হোসেন, সাংবাদিক সেলিম সরদার, ব্যবসায়ী শাহরিয়ার কবীর শাকিল, দুর্জয় ইসলাম লিমন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিত্রশিল্পী তানহা ইসলাম শিমুল। এ সময় শিক্ষক শারমিন সুলতানা, শিউলি খাতুন, পারভিন আক্তার, সায়ন্ত সুরভী ঊর্মি, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনশেষে আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, বইয়ের পাতায় নয়, বাস্তব আয়োজনে বাংলার লোকসংস্কৃতিকে দেখার এমন সুযোগ শিশুদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
