ধান সংগ্রহে ওজনে কারচুপি করলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোর খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সমকাল
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৫:০৮ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ১৫:৩২
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের ওজনে ঠকানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার দুপুরে যশোর খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এবার সরকার প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা কৃষকদের জন্য ভালো মূল্য। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন এবং খাদ্য অধিদপ্তরও প্রয়োজনীয় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের কৃষকবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণেই এবার দেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়লেও সরকার কৃষি খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “প্রয়োজনে শহরের বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও কৃষকের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করে কৃষি সেচের জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সঠিক সময়ে সেচ দিতে পেরেছেন এবং ভালো ফলন হয়েছে।”
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিখাতে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।
