ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অনুদানের আশায় এয়ার ফ্লো মেশিন সংগ্রহ, মেলেনি টাকা

অনুদানের আশায় এয়ার ফ্লো মেশিন সংগ্রহ, মেলেনি টাকা
×

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিতরণ করা ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ নিয়ে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। প্রকল্পের আওতায় অনুদানের আশ্বাসে মেশিন সংগ্রহ করলেও দুই মাস পেরিয়ে পরও বরাদ্দের টাকা পাননি তারা। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

জানা গেছে, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরের ১৬ মার্চ উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রামের ১৫ কৃষক ২০ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে এসব মেশিন সংগ্রহ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, মেশিন দেওয়ার আগে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছিল, প্রতিটি মেশিনের বিপরীতে প্রকল্প থেকে ২৭ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এমনকি মেশিন নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই টাকা কৃষকদের হাতে পৌঁছে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা পাননি তারা।

জটারপাড়া গ্রামের কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে মেশিন নিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই ২৭ হাজার টাকা অনুদান পাব। কিন্তু এখনও টাকা পাইনি। টাকার অভাবে মেশিনটি ঠিকভাবে স্থাপনও করতে পারিনি। ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।’
ডুমুরতলা গ্রামের কৃষক ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘২০ হাজার টাকা দিয়ে মেশিন নিয়েছি। সেটি বসাতে আরও প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস এখনও বরাদ্দের টাকা দিচ্ছে না। বারবার ঘুরিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না।’

ভুক্তভোগী অন্য কৃষকরা বলছেন, দ্রুত টাকা ছাড় না হলে অনেকেই মেশিন ব্যবহার থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে সরকারের কৃষি উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের সুফলও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া তারা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ, পেঁয়াজ সংরক্ষণের উপযোগী সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। কিন্তু এখনও বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। এতে উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো ত্রুটি নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘কৃষকদের হয়রানির বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই জানলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×