ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৮ লাখ টাকায় নিয়োগ, পরীক্ষায় পাসের চুক্তি

১৮ লাখ টাকায় নিয়োগ, পরীক্ষায় পাসের চুক্তি
×

আটক পরীক্ষার্থীরা

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০০:৪৭

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের নবারুণ পাবলিক স্কুল কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক পরীক্ষার্থীরা হলেন– সদর উপজেলার বলাইয়েরচর ইউনিয়নের কুমড়ারচর গ্রামের মমিনুল ইসলাম মমিন, চরশ্রীপুর গ্রামের রসুল মিয়া, পাইকারতলা গ্রামের রায়হান হোসেন, কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া গ্রামের মহিউর রহমান মশাল এবং চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের পূর্ব খাসপাড়া গ্রামের শান্ত মিয়া।

তারা ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ অন্যান্য ইভেন্টে উত্তীর্ণ হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা লিখিত পরীক্ষা পাস করার জন্য জনপ্রতি ১৮ লাখ টাকা চুক্তিতে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেছেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার জানান, নির্দেশনা ছিল শনিবার পরীক্ষা চলাকালে কোনো পরীক্ষার্থী ওয়াশরুমে যেতে পারবেন না। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কেউ হল ছাড়তেও পারবেন না। কিন্তু পরীক্ষা চলকালে একজন শিক্ষার্থীর গতিবিধি ও আচরণ তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এ সময় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁকে তল্লাশি করলে দেখা যায়, একটি অদ্ভুত ডিভাইস তাঁর শার্ট ও গেঞ্জির নিচে লুকানো। পরে শরীর তল্লাশি করলে তাঁর কানে একটি ছোট ইয়ার ফোন পাওয়া যায়। এই অবস্থায় সব পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হলে আরও চারজনের কাছে একই ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় একটি চক্র জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, পাঁচজনের কাছে একই ডিভাইস পাওয়া গেছে। এতে প্রমাণ হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছে। চাকরি পেলে তাদের প্রত্যেকেই ১৮ লাখ টাকা করে দেবেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা সাংবাদিকদের জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরীক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে অভিনব কায়দায় ডিভাইস তাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষার হলে পাঠানো হয়। কারও শরীরের গেঞ্জির ভেতরে, আবার কারও জুতার ভেতরে ডিভাইস লুকানো ছিল। পরীক্ষার্থীদের পরনের পোশাকও বিশেষভাবে বানিয়েছে চক্রটি। ওই চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

আরও পড়ুন

×