ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

উপচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ফের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের  

ফের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের  
×

ফাইল ছবি

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৮:১৪ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ২০:২৮

পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান না হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সোমবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক শাটডাউন পালন করে আসছিলেন। পরে ৫ মে বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৯ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষকরা ১০ মে পর্যন্ত শাটডাউন স্থগিত রেখে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান। তবে তারা আগেই জানিয়েছিলেন, সিন্ডিকেট সভায় সমস্যার সমাধান না হলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদসহ মোট ১৪ জন সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিলেন সরাসরি এবং ছয়জন যুক্ত হন ভার্চুয়ালি।

সভায় পদোন্নতি সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–এর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন পদোন্নতি নীতিমালায় হবে। এ লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংবিধি প্রণয়নে দুই মাস সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনার পর সহযোগী অধ্যাপক কোটার সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়সার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল রোববার পদত্যাগ করেন। যদিও তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিকালে শিক্ষক সমাজের নামে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সোমবার থেকে প্রশাসনিক শাটডাউন ও উপচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশীরভাগ সিন্ডিকেট সদস্যর মতামত উপেক্ষা করে উপচার্য তার নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে ববি উপচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ তৌফিক আলম সমকালকে বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে ববির নতুন আইন প্রনয়ন করে পদোন্নতিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করা হবে। এজন্য দুইমাস সময় নেয়া হয়েছে। এখন শিক্ষকরা দাবী করছেন সিদ্ধান্ত নাকি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষকরা রোববার সারাদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যেগ নেব।’

দুজনের পদত্যাগের কথা স্বীকার করে উপচার্য বলেন, ‘সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়সার অসুস্থ। চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাবেন। তাকে বলা হয়েছে পদত্যাগপত্র গৃহীত হবেনা। সুস্থ হলে ফের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রক্টরের পদত্যাগের কথা শুনেছি। তবে তার পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত হাতে পায়নি।’

আরও পড়ুন

×