স্বাক্ষর জাল করে অফিস সহায়ক-আয়া নিয়োগ
অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
সংগৃহীত
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৮:৪৯ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৯:৩৮
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া নুরানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক ও আয়া পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে আনারুল ইসলাম নয়ন নামে এক অভিভাবক সদস্য রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত এ অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া নুরানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান ২০২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অফিস সহায়ক ও আয়া নামে দুটি নবসৃষ্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে পদ দুটি সৃষ্টি করে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। প্রার্থীদের কাগজপত্রও ছিল ভুয়া। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। তাদের কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে আহসান হাবীবকে অফিস সহায়ক এবং লায়লাতুন নাহার জান্নাতিকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পরও ওই দুই ব্যক্তি কখনও বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেননি। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তাদের নিয়োগপত্রই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সম্প্রতি ওই দুইজনের এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেত্তার আলী ও সদস্য আফজাল হোসেন ফকিরের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘এই নিয়োগের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রে আমরা স্বাক্ষর করিনি।’
অভিযোগকারী অভিভাবক আনারুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান শাহীন একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। তিনি সভাপতি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অন্যদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগপত্র দিয়েছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপাড়া নুরানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং আমার স্বাক্ষরও নেই। এ দায়ভার আমার নয়।’ তবে নিয়োগপ্রাপ্ত আহসান হাবীব ও লায়লাতুন নাহার জান্নাতি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহীনুর রহমান দুটি নয়, একটি পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
