ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখার মাশুল শিশুর মৃত্যু

গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখার মাশুল শিশুর মৃত্যু
×

সংগৃহীত

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৯:০১

বাড়ির পাশের পানিভর্তি গর্তটাই যেন হয়ে উঠেছিল মৃত্যুফাঁদ। যে ড্রেন নির্মাণের কাজ এক বছর আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেই খোঁড়া নালার পানিতেই ডুবে নিভে গেল ছয় বছরের শিশু ইফাদ হাসানের জীবনপ্রদীপ। আজ মঙ্গলবার সকালে কুমারখালী স্পোর্টিং মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয় প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে। পুরো এলাকাজুড়ে তখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি আর ক্ষোভ– ‘সময়মতো কাজ শেষ হলে আজ হয়তো বেঁচে থাকত ইফাদ।’

নিহত ইফাদ কুমারখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী নাতুড়িয়া পাড়ার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে। সে স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্বজনের অভিযোগ, বছরখানেক আগে ড্রেন নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হলেও এরপর আর কাজ এগোয়নি। বর্ষার পানি জমে সেখানে ছোট খাদের মতো সৃষ্টি হয়। সেই পানিতেই গত সোমবার বিকেলে ডুবে মারা যায় ইফাদ।

শিশুটির মামা স্বাধীন হোসেন জানান, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে ছাগল চরাতে বের হয় ইফাদ। কিছুক্ষণ পর সামাদ বাড়ি ফিরলেও ইফাদ আর ফেরেনি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মানিক শেখের বাড়ির সামনে পানিভরা খাদে তার স্যান্ডেল দেখে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘সময়মতো ড্রেন নির্মাণ হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।’

সোমবার সন্ধ্যায় ইফাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। প্রতিবেশীরা এসেছেন শেষবারের মতো শিশুটিকে দেখতে। সন্তান হারিয়ে মা শারমিন আক্তার বারবার বিলাপ করছিলেন, ‘ওরে একবার বুকে ধরি… আমার কোলে দেন… আমি ওরে দেখে রাখতে পারলাম না!’
চাচা সামছুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছর আগে ড্রেনের জন্য খাল কাটা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। সেখানে মানুষসমান পানি জমে ছিল। সেই পানিতেই আমার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর দায় ঠিকাদার এড়াতে পারে না।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ও সড়ক নির্মাণকাজের টেন্ডার পায় মাদারীপুরের কিংডম বিল্ডার্স লিমিটেড অ্যান্ড নুরজাহান রিসোর্স ইন্টারন্যাশনাল (জেভি)। স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ দেখভাল করছিলেন লিটন আলী।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে লিটন আলী প্রথমে কাজ চলমান বলে দাবি করেন। পরে শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে কুমারখালীর ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, ‘ঠিকাদারের অবহেলা আছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নির্মাণাধীন ড্রেনেজে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×