ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের তার

বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের তার
×

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিরগ্রাম আলহাজ অলিয়ার রহমান খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের ওপর ঝুলে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার সমকাল

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ বরাবর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ১১ হাজার ভোল্ট বিদ্যুতের সাতটি তার। হাই ভোল্টেজ এসব তারের নিচ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হয় দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে– ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিরগ্রাম আলহাজ অলিয়ার রহমান খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিরগ্রাম শাহাজাদী শিরিন বালিকা বিদ্যালয়। দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শিক্ষার্থী আড়াই শতাধিক। ১১ কেভির হাই ভোল্টেজ এসব তারের নিচ দিয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয়। শিশুরা মাঠে খেলাধুলাও করতে পারে না। তার ছিঁড়ে পড়ার ভয়ে বৈশাখের ঝড়বৃষ্টির দিনে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। 

গত ৬ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য বোয়ালমারী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মাঠের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি খুঁটিতে তারগুলোর সংযোগ আছে। দুই খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার। এ দূরত্বে তিনটি খুঁটি থাকার কথা। একটি কম থাকায় তার ঝুলে আছে।
শাহাজাদী শিরিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলে, বিদ্যালয়ের ফটক পার হলেই বিদ্যুতের তারের দিকে নজর যায়। এগুলো যেভাবে ঝুলে থাকে, মনে হয় এই বুঝি ছিঁড়ে আমাদের ওপর পড়ল। আমরা খুব ভয়ে ভয়ে স্কুলে আসি। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া রহমান জানায়, তারা এই মাঠে শরীর চর্চা করতে পারে না। কেউ খেলাধুলাও করতে পারে না।
আসাদুজ্জামান ও সোহরাব হোসেনসহ ৮ থেকে ৯ জন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুতের তার অপসারণ জরুরি।

শিরগ্রাম শাহাজাদী শিরিন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিবুজ্জামান শাহীন জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান এলাকার শিক্ষানুরাগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা অলিয়ার রহমান খানের প্রতিষ্ঠা করা। তিনি গত বছর মারা গেছেন। বিদ্যুৎ অফিস থেকে জানিয়েছে, লাইন সরাতে হলে তিনটি খুঁটিসহ জিনিসপত্র প্রয়োজন, সেখানে বেশ কিছু টাকা খরচ হবে। তা বহন করা স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অভিভাবকরা প্রায় সময় এসে মাঠ থেকে বিদ্যুতের তার সরানোর কথা বলেন। সম্প্রতি আমরা বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন করেছি।
দক্ষিণ শিরগ্রাম আলহাজ অলিয়ার রহমান খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সোহেল আমিন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা এ সংযোগ সরানোর জন্য বার বার তাগাদা দিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষে আমি বিদ্যুৎ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।

আলফাডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের এজিএম আশীষ কুমার রায় বলেন, উপজেলা আমাদের হলেও এটা আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বোয়ালমারী অফিস থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
বোয়ালমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের এজিএম দীপু হালদার বলেন, দুটি স্কুলের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। ডিজিএমের স্বাক্ষর নিয়ে আমরা ফরিদপুর অফিসে পাঠাব। ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদন পেলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিদ্যালয় দুটির মাঠ থেকে বিদ্যুতের সংযোগ সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×