ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ
×

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ছবি-সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৩:৩৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১৪:০৫

চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এই মন্ত্রীর জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে রাখা মরদেহ ঘিরে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ সময় উপস্থিত অনেকেই বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনেক অবদান রেখেছেন। এমন অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী উনাকে সবসময় স্মরণে রাখবে। 

মরহুমের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর বাবা মারা গেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশ ও চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় তাঁর বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েক দিন আগে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর মেজো ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব উর রহমান রুহেল ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন

×