ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিজিটাল সেবা বন্ধ, ভূমি অফিসে ঘুরছে ভুক্তভোগীরা

ডিজিটাল সেবা বন্ধ, ভূমি অফিসে ঘুরছে ভুক্তভোগীরা
×

সংগৃহীত

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ২০:১৯ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ২০:৩৪

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রায় দুই মাস ধরে অনলাইনে নামজারি (মিউটেশন) ও ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চরাঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা মানুষজন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দিনের পর দিন উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় না থাকায় নামজারির আবেদন নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া মিস কেস, ভুল দাগ সংশোধন, ভুল খাজনা সংশোধনসহ ভূমি কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়- এমন প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। 

ভূমি অফিস সূত্র জানায়, জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা হালনাগাদ কিংবা ব্যাংক ঋণ গ্রহণের জন্য নামজারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন সেবা বন্ধ থাকায় আবেদনকারীরা বিপদে পড়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও অ্যাকাউন্ট জটিলতার কারণে অনেকেই তাদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে বকেয়া বাড়ার পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত নানা আইনি জটিলতার শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

চরাঞ্চল থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা জানান, তারা দূরদূরান্ত থেকে এসে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী সানা মিয়া বলেন, ‘ডিজিটাল সেবার কথা বলা হলেও বাস্তবে মানুষকে শুধু হয়রানিই পোহাতে হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা বন্ধ থাকা খুবই দুঃখজনক। প্রতিদিন অফিসে এসে শুধু শুনতে হয় সার্ভারে সমস্যা বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ।’

আরেক ভুক্তভোগী জোনাব আলী বলেন, ‘চর এলাকা থেকে হেঁটে ও নদী পাড়ি দিয়ে কয়েকবার ভূমি অফিসে এসেছি। কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। নামজারি করতে না পারায় জমির কাগজপত্র নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়েছি।’

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নামজারি ও খাজনা সংক্রান্ত সেবাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী ।

আরও পড়ুন

×