ছাগলের ওজন বাড়াতে মেশিনে লোহার রিং !
য় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:২১ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১০:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকারভোগীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সোমবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে এ অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ছাগলের ওজন বাড়িয়ে দেখানোর জন্য অভিনব কৌশলে ডিজিটাল ওজন মেশিনের ভেতরে চারটি লোহার রিং ঢুকিয়ে রাখা হয়, যার ওজন এক কেজি ৭০০ গ্রাম।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের স্টাফ রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, ওজনের ডিজিটাল মেশিনটি অফিসেরই। আমরা আজকেই প্রথম এটি খুলেছি। রিং ঢোকানোর বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। ফিটিংয়ের সময় হয়তো ভুল হয়েছে।
উপকারভোগীরা জানান, প্রথমদিকে বিতরণ স্বাভাবিক মনে হলেও পরে কয়েকটি ছাগলের আকার ও ওজন নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে বাইরে এনে ওজন করলে দেখা যায়, কোনো কোনো ছাগলের ওজন সাড়ে তিন কেজি থেকে ছয় কেজির মধ্যে। হাতেগোনা কয়েকটি ছাগলের ওজন আট কেজির কাছাকাছি ছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কিছু উপকারভোগীসহ স্থানীয় জনতা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির দাবিতে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী অলিভিয়া নংমিন, পূর্ণা রিছিল, রবি হাজং ও জয় পদ্ম হাংজসহ অনেকেই বলেন, আমরা শুনেছি একটি ছাগলের সর্বনিম্ন ওজন আট কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু এখন দেখছি দুটি ছাগল মিলিয়েও অনেক সময় সাড়ে সাত থেকে আট কেজি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধি সাগর বেপারি বলেন, আমি ৩০টি ছাগল এনেছি। এর মধ্যে ৬-৭টি ছোট ছাগল ছিল। হোসেন আলী নামের একজন বলেন, টাঙ্গাইলের রাসেল ঠিকাদারের আমি একজন কর্মচারী। আমাকে দিয়ে ছাগলগুলো পাঠানো হয়েছে। কিছু ছোট ছাগল থাকতে পারে।
আদিবাসী নেতা বদুয়েল কুবি আক্ষেপ করে বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে যদি অনিয়ম করা হয়, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এ ধরনের ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানিকা সরকার বলেন, মূল ঠিকাদার সরাসরি এখানে আসেন না। তাদের সাব-ঠিকাদার ছাগল ও উপকরণ পৌঁছে দেন, আমরা অফিসিয়ালভাবে তা গ্রহণ করি। সকালে প্রথম পর্যায়ে বিতরণ সঠিক ছিল। আজ ২০০ উপকারভোগীর মধ্যে ১০০ জনের কাছে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের ওজন কমপক্ষে আট কেজি হওয়ার কথা। যেসব ছাগলের ওজনে সমস্যা পাওয়া গেছে, সেগুলো নতুন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- ওজন নিয়ন্ত্রণ
- প্রাণিসম্পদ খাত
- ছাগল
