ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

আল্লাহ! বাবাকে ফিরিয়ে দাও

আল্লাহ! বাবাকে ফিরিয়ে দাও
×

বজ্রপাতে কৃষক বাবার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে কুলসুম। তাকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টায় বড় ভাই বাবন প্রামাণিক। তার চোখজুড়েও কান্না। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে -মুনসী লিটন

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিকেল থেকে মেঘ জমেছিল আকাশে। তখনই জমিতে কেটে রাখা ধানের আঁটির কথা মনে পড়ে হজরত আলী প্রামাণিকের। সেই ধানের আঁটি যখন স্তূপাকারে জড়ো করছিলেন, তখনই শুরু হয় তুমুল ঝড়; সেই সঙ্গে বৃষ্টি। বৃষ্টির সঙ্গে গগনবিদারী শব্দে একের পর এক বজ্রপাত। সেই বজ্রপাতে জমিতেই লুটিয়ে পড়েন হজরত আলী। 
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামে গুরুতর আহত হন হজরত আলী। অচেতন অবস্থায় তাঁকে নেওয়া হয় প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এই কৃষককে। 

হজরত আলী প্রামাণিক জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের জয়ন্তী হাজরা গ্রামের মৃত আক্কেল আলী প্রামাণিকের ছেলে। তাঁকে মৃত ঘোষণার অল্পক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছায় তাঁর সন্তানরা। বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সেখানেই ভ্যানে বসে কাঁদছিল হজরত আলীর ৬ বছরের কন্যা কুলসুম। সে ইতোমধ্যে জেনে গেছে, প্রাণপ্রিয় বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না। তার বুকফাটা কান্না সামলাতে বুকে আগলে নেয় বড় ভাই বাবন প্রামাণিক। পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া বাবনের কণ্ঠে তখন বাবার প্রাণভিক্ষার আকুতি। বাবন বলছিল, ‘আল্লাহ! আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও।’
নিহত হজরত আলীর ভাতিজা বাপ্পীর (২০) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাঁর চাচা বিকেলে মেঘ দেখে জমিতে কেটে রাখা ধানের আঁটি গুছিয়ে রাখতে যান। তখনই বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। তখন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টা বাজে। এ সময় অচেতন অবস্থায় চাচাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ভ্যানে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ৭টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

একই সময়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালিশংকপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা (১০), বিলজানি গ্রামের আনিস মোল্লার স্ত্রী গৃহবধূ ডলি খাতুন (২০) ও খোকসা-পাংশার সীমান্তবর্তী হলুদবাড়িয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ সমা পারভিন (২৫)। তাদের তিনজনই এখন খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমিন আকতার রিমা বলেন, বজ্রপাতে আহত কৃষককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছার অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা কোনো চেষ্টাই করতে পারেননি। অন্য তিনজনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 
জয়ন্তী হাজরা ইউপির চেয়ারম্যান সাকিব খান টিপু বলেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া কৃষক হজরত আলী খুব সহজসরল জীবনযাপন করতেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

আরও পড়ুন

×