কক্সবাজারে আশ্রয়দাতার শিশুকে অপহরণ, রোহিঙ্গা নারী আটক
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০২:১১
মানবিক কারণে অসহায় এক নারীকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিয়েছিলেন এক দম্পতি। খাইয়েছেন, পরিয়েছেন, দিয়েছেন নিরাপদ ছাদ। কিন্তু সেই আশ্রয়ের প্রতিদান মিলল চরম বিশ্বাসঘাতকতায়। আশ্রিত সেই নারীই ওই পরিবারের তিন বছরের শিশুকে অপহরণ করে দাবি করেন ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ। অবশেষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মহেশখালী থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশু আরবী হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশ। আটক রং বাহার উখিয়ার কুতুপালং-২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যান রং বাহার। সেখানে তাকে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মানবিক কারণে উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার নিজেদের বাসায় থাকার জায়গা দেন। কিন্তু ৬ জুন সন্ধ্যায় নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশু আরবীকে নিয়ে বাড়ি থেকে সটকে পড়েন তিনি।
শিশুর মা সুমি আক্তার বলেন, ‘স্বামী কারাগারে থাকায় ওই নারী অসহায়ত্ব প্রকাশ করলে আমরা তাকে আশ্রয় দিই। চার দিন পর সে আমার ছেলেকে নাস্তা কিনে দেওয়ার নাম করে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেলেও ফোনের ওপার থেকে সে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।’
সুমি আরও জানান, সন্তানের প্রাণের ভয়ে তারা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কয়েক দফায় প্রায় ৩৭ হাজার টাকা ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
তবে আটকের পর অভিযুক্ত রং বাহার অপহরণের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন ভিন্ন কারণ। তার ভাষ্যমতে, সাদ্দাম তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি শিশুকে নিয়ে যান। মূলত নিজের মোবাইল ফেরত পেতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। পরে মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকা থেকে শিশুকে উদ্ধার ও মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক নারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
