কক্সবাজারে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে পর্যটক
অন্ধকারাচ্ছন্ন হোটেলের লবি। ছবি-সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০০:৫৩
কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শহরবাসী। পর্যটকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অসহনীয় পরিস্থিতিতে সময় কাটাতে হচ্ছে। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটির মধ্যে দুই দিন বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী সমকালকে বলেন, প্রতিটি ট্রান্সফর্মারের নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে। পুরোনো ট্রান্সফর্মারগুলোকে অতিরিক্ত লোড দিলে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রান্সফর্মারগুলোকে তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার নিচে রেখে পরিচালনা করা হয়েছে কয়েক দিন। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কিছু এলাকায় পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হয়েছে। একটি ফিডার বন্ধ রেখে পরে তা চালু করে অন্য ফিডারে লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে দুই দিন। তবে গত শুক্রবার রাত থেকে ট্রান্সফর্মারের ত্রুটির সম্পূর্ণ সমাধান করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, শহরে ও হোটেল-মোটেল জোনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার সমকালকে বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম। এর মধ্যে কয়েক দিন লোডশেডিংয়ে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছে পর্যটকরা। লোডশেডিংয়ের কারণে বুকিং বাতিল করেছে– এ রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের স্বাভাবিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ব্যাহত হয়েছে।
কলাতলী-মেরিনড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পর্যটকদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, অন্যদিকে পর্যটকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, লোডশেডিং মানেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া। কক্সবাজার একটি পর্যটন নগরী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের খাত, তাই এখানে সরকারের আরও বেশি নজরদারি প্রয়োজন।
