তনু হত্যা মামলা
সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলে গেলে জানা যাবে হত্যারহস্য
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা তদন্তে গতি এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাবি করেছে তদন্তে নতুন তথ্য পাচ্ছে তারা। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। এবার ১০ বছর পর পিবিআই তনুর পোশাকে আরও এক পুরুষের রক্তের আলামত পেয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের ‘ডিএনএ প্রোফাইলিং’ মেলাতে জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের পর তার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হলেও নতুন করে আরও একজনসহ মোট তিনজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে তাদের খোঁজা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সমকালকে এসব তথ্য জানান।
ডিএনএ প্রতিবেদনে যা আছে
পিবিআই সূত্র জানায়, সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে তনু হত্যার ঘটনায় ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩টি নমুনা ছিল সন্দেহভাজন ১৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল। সেগুলোর মধ্যে তনুর ওড়না, সালোয়ার ও অন্তর্বাসে পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যায়। এসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিনজন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তাতে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। তনুর সালোয়ার, ওড়না ও অন্তর্বাসে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে ওই ডিএনএ প্রোফাইলের মিল নেই।
গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতে এসব তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনটি দাখিল করে তা নথিভুক্ত করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রোফাইলিং
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চারজনের ডিএনএ প্রোফাইলিং মিলিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার হত্যার রহস্য বের হতে পারে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটার বাসিন্দা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান জাহিদ, টাঙ্গাইল সদরের হোগড়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের নিজ বাসা থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন ঢাকায় ডিএনএ ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই দিনই বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বিএনপির সরকার আন্তরিক না হলে মামলার তদন্তে এমন অগ্রগতি হতো না। দেশবাসী চায় আমার মেয়েটার হত্যার রহস্য বের হোক। যারা প্রকৃত দোষী তাদের যেন বিচার হয়। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। মৃত্যুর আগে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তে এখন শেষ ভরসা ডিএনএ মিলিয়ে দেখা। এ পর্যন্ত আমাদের হাতে তিন পুরুষের শুক্রাণু এবং এক পুরুষের রক্তের ডিএনএ প্রোফাইল এসেছে। ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। অপর তিনজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে পারলে হয়তো হত্যার রহস্য
বের হবে।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে হাফিজুর যেসব তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ মামলার তদন্ত চলছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গলের মধ্যে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছে পিবিআই।
সংশোধনী
গতকাল সোমবার দৈনিক সমকালের শেষ পাতায় তনু হত্যা মামলায় ‘ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেছে আরও এক পুরুষের শুক্রাণু’ শিরোনামে
প্রকাশিত সংবাদে রক্ত পাওয়ার স্থলে ভুলবশত শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখিত।
- বিষয় :
- হত্যা
