ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাঙ্গুনিয়ায় পাশপাশি কবরে শায়িত ওমানে নিহত চার ভাই

রাঙ্গুনিয়ায় পাশপাশি কবরে শায়িত ওমানে নিহত চার ভাই
×

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ২০:২৯ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ২০:৩১

কোরবানির ঈদ এবং দুই ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে ওমান থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চার ভাই। পরিবারের সবাই যখন উৎসবের অপেক্ষায়, তখন উৎসবের বদলে বাড়িতে ফিরেছে তাঁদের নিথর দেহ। গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে ওমানে মৃত্যুর পর বুধবার ভোরে চার ভাইয়ের কফিনবন্দি মরদেহ পৌঁছায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজার পাড়ায়।

নিহত চার ভাই হলেন- রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. শহিদুল ইসলাম। জীবিত একমাত্র ভাইয়ের ইমামতিতে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় তাদের। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ওমান থেকে দেশে ফেরে চারজনের মরদেহ। ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ৯টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাদের কফিনবন্দি মরদেহ গ্রহণ করেন।  

গত ১২ মে রাতে ওমানে চার ভাই মিলে বিয়ের বাজার করতে গাড়িতে করে বের হয়েছিলেন। পরদিন ১৩ মে সকালে ওমানের মুলাদাহ এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে তাঁদের অচেতন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু ঘটেছে। 

মৃত্যুর আগে এক ভাই তাঁদের চাচাতো ভাই পারভেজের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।’ ১০ মিনিট পর পারভেজ কল করলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। 

বুধবার বেলা ১১টায় নিজ গ্রাম রাঙ্গুনিয়ার লালানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জেলা প্রশাসন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ হাজারো মানুষ। 

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই এনামুল ইসলামের ইমামতিতে জানাজা শেষে বন্দারাজারপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি এতদিন জানানো হয়নি তাদের অসুস্থ মা খাদিজা বেগমকে। তিনি যাতে বিষয়টি জানতে না পারেন, সেজন্য লোকজনকে তাদের বাড়িতে পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। 

চার ভাইকে হারিয়ে দেশে অবস্থান করা তাদের একমাত্র ভাই মাওলানা মো. এনামুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এনামুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই একসঙ্গে ছিলাম। আমাদের মধ্যে মন আর মতের মিল ছিল। এলাকায় এজন্য আমাদের পরিবারের সুনাম ছিল। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল। চার ভাইকে আমি একসঙ্গে হারিয়ে ফেললাম। আজ আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের মাকে কীভাবে বাঁচাবো বুঝতে পারছি না।’ 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, চার ভাইয়ের মরদেহ ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে আনার ব্যবস্থা করেন এলাকার সংসদ সদস্য মহোদয়। সরকারিভাবে প্রবাসীদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা তাদের পরিবার প্রাপ্য, সেটা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×